ঢাকা | এপ্রিল ১৮, ২০২৪ - ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

বন্ধ হলো রাজশাহীর করোনা ইউনিট

  • আপডেট: Sunday, May 15, 2022 - 7:13 pm

স্টাফ রিপোর্টার: একটু শ্বাস নেওয়ার জন্য মানুষের প্রাণপণ চেষ্টা। করোনার সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই। আর এ লড়াইয়ে পরাজিতদের জন্য একটু পর পর স্বজনদের কান্না, আহাজারি। একটা সময় এ রকমই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিট। তারপর ধীরে ধীরে সংকট কেটেছে। এবার ইউনিটটি আপাতত বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ ঘোষণা করে।

শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, ‘এখন তো করোনা রোগী নেই। মাত্র দুই-তিনজন রোগী করোনার লক্ষণ নিয়ে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁরাও ছাড়পত্র পেয়েছেন। ফলে ওয়ার্ডটি রোগীশূন্য হয়। তাই আমরা সেটি আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেছি।’

করোনার সংক্রমণের শুরুতে একটি ওয়ার্ডে এই হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। তারপর দফায় দফায় ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এক সময় হাসপাতালের ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে হয় করোনা ইউনিট। এসব ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৫১৩টি। এর মধ্যে করোনা রোগীদের জন্য ছিল ২০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রও (আইসিইউ)। তারপরও করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণের সময় রোগী রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও রংপুর ও খুলনা বিভাগের রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন।

করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণের সময় করোনা ইউনিটে ১০ থেকে ২৫ জন পর্যন্ত রোগী মারা গেছেন প্রতিদিন। ধীরে ধীরে মানুষ টিকার আওতায় এলে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ এই হাসপাতালটিতেও করোনা রোগীর চাপ কমতে থাকে। গত বছরের শেষের দিকে করোনা রোগী একেবারেই কমে যায়। তাই ধীরে ধীরে করোনা ইউনিটেরও ওয়ার্ডের সংখ্যা কমে। সবশেষ গত কিছু দিন ধরে শুধু ৩০ নম্বর ওয়ার্ডটিতেই করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা চলত। শুক্রবার সেই ওয়ার্ডটিও বন্ধ করে দেওয়া হলো।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘ওয়ার্ডটি আমরা আপাতত বন্ধ করেছি। তবে রোগীর চাপ হয় কি না তার জন্য আরও একমাস অপেক্ষা করব। সেখানে অন্য কোন রোগী একমাস রাখব না। ওয়ার্ডটির কিছু সংস্কারও প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে সেটা করে ফেলব। আর এই একমাসে যদি দু’চারজন করোনা রোগী আসে তাহলে তাদের সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি নেব। তখন রামেক হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে অন্য রোগী দেব। কিন্তু যদি করোনা রোগী আবার অনেক বাড়ে তখন রামেক হাসপাতালেরও করোনা ইউনিট চালু হবে। আমাদের প্রস্তুতি থাকবে।’

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহীর ৯ উপজেলা ও মহানগরে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৩ হাজার ৮২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ৪৮২ জন। করোনা পজিটিভ অবস্থায় মারা গেছেন ৩৪২ জন। করোনার উপসর্গে কতজন মারা গেছেন সেই হিসাব নেই। শনিবার জেলায় একজন করোনা পজিটিভ রোগী ছিলেন।