ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৬:৪২ পূর্বাহ্ন

পবায় জনগণের প্রতিরোধে বন্ধ হলো পুকুর খনন

  • আপডেট: Saturday, May 14, 2022 - 9:30 pm

স্টাফ রিপোর্টার: পবা উপজেলা এখন পুকুরখনন সিন্ডিকেটের অভয়ারন্য। তবে এবার এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে এলাকাবাসি। প্রশাসন পুকুরখনন রুখতে না পারলেও একালাবাসীর প্রতিরোধের মুখে মেশিন ফেলে পালিয়েছে পুকুরখনন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

আর এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের স্বরমুংলা গ্রামের মাঠে। এ নিয়ে পুকুরখনন সিন্ডিকেটের ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে পুকুরখনন বন্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে পুকুরখননের জন্য মাটি কাটতে থাকে। তখন স্বরমংলা গ্রামসহ আশে-পাশের গ্রামের লোকজন একযোগ হয়ে পুকুরখননের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পুকুরখনন সিন্ডিকেটের মূলহোতা গোবিন্দপুরের আজাহারের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বেজোড়া গ্রামের খোশ মোহাম্মাদের ছেলে রতন আলী ও আব্দুল মজিদের ছেলে মো. সেলিম হোসেন, স্বরমুংলা গ্রামের আতাবরের ছেলে বুলবুল হোসেন ও ড্রাইভার মেশিন ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

জানা যায়, পুকুরখনন সিন্ডিকেটের মূলহোতা গোবিন্দপুরের আজাহারের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব প্রতিবছরই স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুরখনন করে থাকে। কিন্তু কোন পুকুরে তিনি মাছ চাষ করেন না। প্রকৃত অর্থে তিন ফসলি জমিতে শুধুমাত্র মাটি বিক্রির জন্য পুকুরখনন করে চলেছে। চোর-পুলিশ খেলায় বিভিন্ন কারণে হেরে যাচ্ছে পুলিশসহ প্রশাসন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে এই পুকুরখননের মহোৎসব।

কৃষক তাইজুল ইসলাম, একরাম উদ্দিন, ফজলুর রহমান, শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মাঠের চারিদিকেই বিভিন্ন গ্রাম অবস্থিত। এই বিলেই চাষাবাদ করে তাদের জীবিকা চালাতে হয়। আবার অনেকে এই বিলের ক্ষেতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। এই পুকুর খনন হলে স্বরমংলা, বাতাসমুংলা, চকপাড়া, শীতলাই, ভবানীপুর, কোয়াটারপাড়া, সাহাজীপাড়া, ভিমেরডাইং, গোবিন্দপুর, আলোকছত্র, ঝিলাইপুকুর, দামকুড়ার হাজার হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিবে। বাকী জমিতেও তখন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।

হুজুরীপাড়া ইউপির সদস্য নোমান বলেন, এই বিলে পুকুরখনন হলে পানি নিস্কাশন হবে না, আবাদ ও বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাবে। এই পুকুরখনন বন্ধে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে। আজই এই আবেদন করা হবে।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেশীরভার পুকুরখনন হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মদদে। সুত্রটি বলছে, এরআগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হাটরামচন্দ্রপুর ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাড়িয়া গ্রামের ফারুক হোসেন ফারদিন, কিসমত কুখন্ডি গ্রামের জোনাব আলীর ছেলে হানিফ মোহাম্মদ পলাশ, কুখন্ডি সোনারপাড়া গ্রামের সেফাতুল্লাহ’র ছেলে ও আওয়ামী লীগ পবা উপজেলা সাবেক সহসভাপতি ফসিউল আলম ভাদু ও কুখন্ডি গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিক। এছাড়াও রয়েছে হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের পুকুরখননকারি প্রধান বর্তমানে দারুশা পশ্চিমপাড়া মিনারুল ও দামকুড়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের আজাহারের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব।