ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৪ - ৫:০৯ পূর্বাহ্ন

গণবিক্ষোভ অব্যাহত পালাচ্ছেন নেতারা

  • আপডেট: Thursday, May 12, 2022 - 11:00 am

অনলাইন ডেস্ক: প্রবল গণবিক্ষোভ ও সহিংসতা থামাতে সেনাবাহিনীর হাতে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার পরও শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিক্ষোভে আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। বিক্ষোভকারীরা পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে গ্রেফতার এবং প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষেরও পদত্যাগ দাবি করছেন। এপি, এএফপি, রয়টার্স, এনডিটিভি, মিরর শ্রীলঙ্কা, ইকোনমি নেক্সট, কলম্বো গেজেট।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের মতো গতকালও দেশটিতে কারফিউ ও গুলির নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। তারা কলম্বো থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরের ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নেওয়া মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে চলেছেন। গতকাল ওই নৌঘাঁটির সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। কলম্বো বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রধান রাস্তাও তারা অবরোধ করে রেখেছেন। এর আগে মঙ্গলবার যখন জনতা রাজাপক্ষের বাড়ি ঘিরে ফেলে, তখন সেনাবাহিনী তাকেসহ তার পরিবারকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে নিয়ে যায়। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সেনা নিরাপত্তায় থাকা অবস্থায় মাহিন্দা রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো দেশ এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা যায়নি। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়েছে, সদ্য ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে ত্রিঙ্কোমালি নৌঘাঁটিতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে নৌ ডকইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, মাহিন্দাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তার পছন্দের জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার বামপন্থি দল জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) মার্কসবাদী এক ঘোষণায় গতকাল জানিয়েছে, শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না। যতদিন না প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া পদত্যাগ না করছেন ততদিন এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। জেভিপির সাধারণ সম্পাদক তিলভিন সিলভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্দোলনকারীদের অবশ্যই সহিংসতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলন অব্যাহত রাখা জরুরি। কারণ সহিংসতা আমাদের উদ্দেশ্য হাসিলে কোনো সুবিধা নিয়ে আসবে না। এটি শুধু প্রতিপক্ষকেই সুবিধা দেবে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। প্রেসিডেন্ট এখনো ক্ষমতায় থাকার সিদ্ধান্ত বদলাননি। তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। উইলসন সেন্টারের বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত কেউই শান্ত হবেন না। রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারী বা প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব- সবাই তার ইস্তফা চাইছেন। আরেক খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে আবার জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল জানিয়ে দিয়েছে, তারা জাতীয় সরকারে যোগ দেবে না।

তারা চায়, গোতাবায়া রাজাপক্ষে পদত্যাগ করুক। খবরে বলা হয়, বিক্ষোভ চলমান অবস্থায় রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় ১০ হাজারের বেশি সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের গুলি চালাতে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে চলমান বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দেশটি এখন সাংবিধানিক সংকটেও পড়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহিন্দা রাজাপক্ষে পদত্যাগ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গেছে মন্ত্রিসভা। এখন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে মন্ত্রিপরিষদ ছাড়াই ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। যদিও তিনি সংসদের একজন সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। তাছাড়া একই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভাও গঠন করতে পারবেন। তবে তার এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। কিন্তু সংসদে তার যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সব দলের সমন্বয়ে ঐক্যেও ভিত্তিতে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধীদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাদের মতে, একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য, অন্যদিকে প্রেসিডেন্টও যদি পদত্যাগ করেন তাহলে সংসদের স্পিকার এক মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হবেন। তারপর নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। প্রেসিডেন্ট যদি পদত্যাগ না করেন তাহলে তাকে অভিশংসন করাও সহজ হবে না। কারণ এক্ষেত্রে প্রথমেই স্পিকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ১৫০ আইনপ্রণেতার সমর্থন লাগবে। বিরোধীদের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নেই। তাই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা খুবই জটিল। প্রেসিডেন্ট সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ প্রয়োজন। প্রশাসনিক এমন সংকটে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোনালী/জেআর