ঢাকা | এপ্রিল ১৪, ২০২৪ - ৪:৫৮ অপরাহ্ন

সাংবাদিক সোহেলের মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবার

  • আপডেট: Tuesday, May 10, 2022 - 12:15 pm

অনলাইন ডেস্ক:  নাটোরে ইউএনওর সরকারি গাড়ির চাপায় প্রাণ হারানো সাংবাদিক সোহেল রানা জীবন (৩৪) পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাকে হারিয়ে প্রায় দিশেহারা তার পরিবার।

নিহত সোহেল রানার স্ত্রী জনি আক্তার (২৮) দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। তিনি এখন কীভাবে ১০ ও ৪ বছরের দুই শিশুসন্তান নিয়ে সংসার চালাবেন, সেই ভাবনা তাকে জেঁকে ধরেছে।

জনি আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, তার শ্বশুর আবদুল জলিল আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ শাশুড়িসহ পাঁচজনের সংসারে তার স্বামী সোহেল আহমেদই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বড় ছেলে সিয়াম হোসেন স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। ছোট মেয়ে সামিয়া খাতুন প্রাক্‌-প্রাথমিকে পড়ে। তার স্বামী সিংড়ার শেরকোল আগপাড়া বন্দর উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুরন্ত সংবাদ পত্রিকার সিংড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

হাসপাতাল থেকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সোহেল আহমেদের লাশ তার বালুয়া বাসুয়ার বাড়িতে নেয়া হয়। বাবার লাশ থেকে কিছুটা দূরে সিয়াম ও সামিয়া ফুফুর কোলে বসে ছিলো নির্বাক দৃষ্টিতে।

এদিকে নলডাঙ্গার ইউএনওর গাড়িচাপায় সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে নাটোর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নাটোরের বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রাশেদুজ্জামান ও সিংড়ার ইউএনও সামিরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কেন সেখানে সরকারি গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, গাড়ির চালক কে ছিলেন, তিনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলো কি না, এসব দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার নাটোরের সিংড়ার নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান সাংবাদিক সোহেল রানা জীবন।

সোনালী/জেআর