ঢাকা | এপ্রিল ১৯, ২০২৪ - ৬:১২ অপরাহ্ন

অনাবৃষ্টিতে ফলন কম: ঝড়ের ভয়ে আগেই আম পাড়ছেন চাষিরা

  • আপডেট: Sunday, May 8, 2022 - 11:19 am

অনলাইন ডেস্ক: সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কম। তার ওপর আগামী সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র শঙ্কা। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাড়তে শুরু করেছেন সাতক্ষীরার চাষিরা।

গত বৃহস্পতিবার থেকে জেলার বাজারে গোবিন্দভোগ জাতের আম বিক্রি শুরু হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই অপুষ্ট হিমসাগর আম বাজারে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষি রয়েছেন।

সরকারি নির্দেশনায় জেলায় আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, ক্ষীরশাপাতি, গোলাপখাস, বৈশাখীসহ অন্যান্য আগাম স্থানীয় জাতের আম, ১৬ মে থেকে হিমসাগর, ২৪ মে থেকে ল্যাংড়া ও ১ জুন থেকে আম্রপালি আম ভেঙে বাজারে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে ঘূর্ণিঝড় অশনির আশঙ্কা থাকায় এবার সরকারি নির্দেশনা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরা জেলা আমচাষি সমিতির সভাপতি লিয়াকাত হোসেন বলেন, করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত কয়েক বছর চাষিরা লোকসানে আছেন। চলতি মৌসুমে ফলন কিছুটা কম। এবার চাষিরা আশা করেছিলেন ভালো দামে আম বিক্রি হবে। কিন্তু আগামী সপ্তাহে একটি ঘূর্ণিঝড় হতে পারে এই শঙ্কায় অনেকে গাছ থেকে আগাম আম পাড়তে শুরু করেছেন। এসব আম কাঁচা বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।

সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, সরকারি নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার থেকে গোবিন্দভোগ আম ভাঙা শুরু হয়েছে। বড় বাজারের প্রতিটি আমের আড়তে শুধু গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথমদিন প্রতি মণ কাঁচা আম বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্য জাতের আম পাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকে গোপনে বাগান থেকেই হিমসাগর আম পেড়ে বিক্রি করছেন। ওই আম ১৬ তারিখের আগে বড়বাজারে বিক্রি হবে না।

সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় আমের ফলন কিছুটা কম। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক গাছেই ফলন হয়নি। যেসব গাছে আম হয়েছে সেগুলোও আকারে ছোট। আগামী সপ্তাহে একটি ঘূর্ণিঝড়ের কথা শোনা যাচ্ছে, এ জন্য চাষিদের আগাম জাতের আম পাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে অপুষ্ট হিমসাগর আমও পাড়ছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে আম রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, আম রপ্তানির জন্য এবারও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শুধু নির্ধারিত বাগানের আম বিদেশে রপ্তানি হবে।

সোনালী/জেআর