ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৪ - ২:৪৮ অপরাহ্ন

সৈকতে ঢেউয়ের তালে তালে নেচে-গেয়ে ঈদের আনন্দ

  • আপডেট: Tuesday, May 3, 2022 - 7:40 pm

অনলাইন ডেস্ক: ঈদের দিন শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে মুখর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। সকাল থেকে এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমন ঘটতে থাকে। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই ভিড় বাড়তে থাকে সমুদ্রসৈকতে। বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়ে সৈকতে আসতে থাকে পর্যটকরা।

কোথাও যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আগত এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সমুদ্রে নীল জলে সাঁতার কাটাসহ প্রিয়জনের সঙ্গে সেফলি তুলে দিনটি উপভোগ করেছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্র ও প্রকৃতিকে। সৈকতে হই-হুল্লোড়, ছুটোছুটি, ফুটবল খেলা যেন আনন্দের কমতি ছিল না।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। অ্যাডভেঞ্জার প্রিয় পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ওয়াটার বাইক নিয়ে সমুদ্রে বাইক রাইডিং করে বেড়িয়েছেন।

কুয়াকাটার কুয়া, সৈকতের লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধবিহার, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট ঘুরে বেড়িয়েছেন পর্যটকরা। কেউ কেউ আবার মোটরসাইকেল নিয়ে সৈকতের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

তবে ঈদের দিন সৈকতে আগত দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ আশপাশের এলাকার বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি ভিনদেশি পর্যটকদের আগমন এবার ঈদের আমেজে ভিন্নতা যোগ করেছেন। মেঘলা আকাশ ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের প্রথম দিনে হাজারও পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ঈদের প্রথম দিন আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮০ ভাগ কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে একটানা ৫-৬ দিন বুকিং থাকবে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ। ১৫ দিন আগে থেকেই অনেকেই অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখে। খাবারের হোটেলগুলোতেও খাবারের জন্য লাইন পড়ে যায়। রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, মিশ্রিপাড়া তাঁতপল্লী সবখানেই কেনাকাটায় ভিড় লেগে যায়।

রমজান মাসে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটিয়েছেন। ১ মাসে লোকসান গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ঈদের প্রথম দিনে এমন অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমনে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে কর্ম ব্যস্ততা ফিরে এসেছে। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের সতর্কতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, রমজানের ১ মাস তারা রোজা রেখেছেন। ইচ্ছা থাকলেও ঘর থেক বের হতে পারিনি। একটানা ৯ দিনের ছুটি পেয়ে সমুদ্রের পাড়ে অবকাশযাপনে বেড়িয়ে পড়েছেন তারা।

আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, ঈদের প্রথম দিনেই তার হোটেলের ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবে ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন স্থানীয় পর্যটকদের ভিড় থাকবে বেশি। বৃহস্পতিবার থেকে ভিআইপি পর্যটকদের আগমন ঘটবে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোতালেব শরীফ জানান, এবারের ঈদের লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলোর প্রায় ৭০ ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ, র‌্যাব মহাসড়কে আগত পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতে টহল থাকবে।

সোনালী/জেআর