ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৪ - ১২:০০ পূর্বাহ্ন

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ জনকে কুপিয়ে হত্যা

  • আপডেট: Tuesday, May 3, 2022 - 6:49 pm

অনলাইন ডেস্ক: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়িতে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে গোহাইলবাড়ি বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আকিদুল মোল্যা (৪৬) ও খায়রুল শেখ (৪৫)। এ ঘটনায় আরও দশজন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকী এবং গোহাইলবাড়ি এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিবাদ চলে আসছে। সম্প্রতি গোহাইলবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচনে আরিফের পক্ষকে পরাজিত করে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ঘটনায় আরিফুজ্জামানের পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত ছিল। মঙ্গলবার ঈদের দিন দুপুরে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী গোহাইলবাড়ি বাজারে তার ব্যবসায়ীক ঘরে লোকজন নিয়ে বসে ছিলেন। সে সময় আরিফের পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মোস্তফা সরে গেলেও চরদৈত্বেরকাঠি গ্রামের মৃত হাসেম মোল্যার ছেলে আকিদুল মোল্যা এবং একই গ্রামের মৃত মোসলেম শেখের ছেলে খায়রুল শেখকে বেধড়ক কুপিয়ে আহত করে। আহত অবস্থায় দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। খায়রুলকে ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে সাতৈর বাজারে পৌঁছালে তিনি মারা যান।

এছাড়া গুরুতর আহত মোস্তফা জামান সিদ্দিকীর দুই ভাই আলমগীর সিদ্দিকী (৫২) ও মাসুদ আহমেদকে (৪০) ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত রাজিবুল ইসলাম (৩০), কাদের মোল্যা (৪০) ও সোহেল শেখকে (২০) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গোহাইলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধে উত্তর বোয়ালমারীর কমান্ডার ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী বলেন, বজলুর রহমান স্বাধীনতার বিপক্ষের লোক। কাগজপত্র জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। এ নিয়ে আমার বাবা (আলাউদ্দিন মিয়া) লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আদালতে গিয়েছেন। এরপর স্কুল নির্বাচনে আমি জিতেছি। এ সব বিষয় নিয়ে ওরা ক্ষিপ্ত ছিল। মূলত আমাকে হত্যা করার জন্য ওরা সংঘবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল।

আরিফকে ফোন করা হলে (০১৭৫৭-৮৩৩৬..) তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধুখালী সার্কেলের এএসপি সুমন কর জানান, সংঘর্ষে আকিদুল ও খায়রুল নামে দুজন মারা গেছেন। এলাকায় ডিবি পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকা এখন শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। লাশ আগামীকাল বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর পাঠানো হবে।

সোনালী/জেআর