ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৭:২৪ পূর্বাহ্ন

মে দিবসের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হোন

  • আপডেট: Saturday, April 30, 2022 - 11:09 pm

পহেলা মে। মহান মে দিবস। আজ থেকে ১৩৬ বছর আগে ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের রক্তঝরা ঘটনার স্মরণে দিনটি সারা বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। সেদিন আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর মালিক ও রাষ্ট্রপক্ষের মিলিত হামলায়হতাহত হন অনেক শ্রমিক। তাদের বুকের তাজা রক্তে ৮ ঘন্টা কাজ, ৮ ঘন্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘন্টা বিনোদনের দাবিতেগড়ে ওঠা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে,পরবর্তীতে বিশ্বজুড়েই শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে আন্দোলন সফল হয়। জন্মহয়মহান মে দিবস।

সেসময় অধিকার বঞ্চিতছিল শ্রমিকেরা। নারী ও শিশু শ্রমিকদেরও বেহাল ছিল না। দৈনিক ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত একটানা কাজ করতে বাধ্য ছিল তারা।হে মার্কেটের ঘটনায় কশ্রমিক হত্যার পাশাপাশি হামলাকারী পুলিশের মৃত্যুর অভিযোগও তোলা হয়। এজন্য বিচারের প্রহসনে শ্রমিক আন্দোলনের বীর নায়কদেরও ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়। এত আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ছড়িয়ে পড়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে। অবশেষে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজেরদাবি স্বীকৃতি লাভ করে। সেই থেকে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের দিন পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।

বাংলাদেশেও ধুমধামের সাথে মে দিবস পালিত হয়ে থাকে। শ্রমিক-কর্মচারীদের সাথে মালিকপ্কষ ও সরকারও দিনটি পালন করে, ছুটির দিন হিসেবে বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ওসংগঠিত শ্রমিক কর্মচারীরা সভা সমাবেশ, বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে লাল পতাকা উড়িয়ে দিনটি অতিবাহিত করেন। তবে অসংগঠিত ও অপ্রাতিস্ঠানিক শ্রমিকদের মে দিবসেও কাজ করতে হয়। ৮ ঘন্টা কাজ দূরে থাক নিয়োগপত্রসহ ন্যূনতম নিশ্চয়তাও নেই বেশিরভাগের। স্বাধীনতার পর অনেক পরিবর্তন সাধিত হলেও এ ক্ষেত্রে খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে। শ্রম আইনেরবিধিবিধানও উপেক্ষিত এখানে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের আগ্রহ ও আন্তরিকতার পাশাপাশি মাীলকসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাটি ছাড়া শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা যে সম্ভব নয় সেটা বলাই বাহুল্য।

তাই, মে দিবসের একদিনের জন্য শ্রমিক দরদী হয়ে কথামালায় আটকে না থেকে বাস্তবজীবনের তার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। ম্রমিক শ্রমজীবীদের ন্যায্য অধিকারের সাথে একাত্ম হতে হবে সেটা সমাজকেই। বুঝতে হবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলা শ্রম ছাড়া মূল্য ও সম্পদ সৃষ্টি হয় না।

এই মূল্য বোধে উদ্বুদ্ধ হলেই শ্রমজীবীদের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত হবে। একমাত্র তখনই মে দিবসপালন সার্থক হবে। মে দিবসের এই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতেও তার বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়াই কাম্য।