ঢাকা | এপ্রিল ১৯, ২০২৪ - ৬:২০ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে নামার পরেই স্বস্তি

  • আপডেট: Friday, April 29, 2022 - 9:53 pm

 

স্টাফ রিপোর্টার: ‘স্টেশনে ১৬ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছিলাম। তারপর হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠি। সিটে বসে থাকলেও ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। চরম গরম। এভাবেই এলাম। এখন রাজশাহীতে নামতেই স্বস্তি লাগছে। এত ভোগান্তির সবই ভুলে গেলাম।’

শুক্রবার দুপুর ১২টায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী এসে স্টেশনে এভাবেই বলছিলেন পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার বাসিন্দা জুলফিকার আলী। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত জুলফিকার ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে এসেছেন বাড়িতে।

জুলফিকার বলেন, ‘বাসে এলে হয়ত একটু ভোগান্তি কম হতো। কিন্তু ট্রেনের ভ্রমণ নিরাপদ। এই ঈদের পথঘাটে ঝুঁকি না নিয়ে বহু কষ্ট করে টিকিট সংগ্রহ করেছি। এখন রাজশাহী আসতে পেরেই সব ভুলে গিয়েছি। পরিবারের সাথে ঈদটা ভালভাবে কাটাতে চাই।’

ঢাকা-রাজশাহী রুটের পদ্মা এক্সপ্রেসের রাজশাহী পৌঁছার কথা ভোর সাড়ে ৪টায়। সেই ট্রেন শুক্রবার আসে সকাল ৭টায়। তা নিয়েও যাত্রীদের কোন অভিযোগ নেই। রাজশাহী ফিরতে পেরেছেন এটিই বড় কথা। স্টেশনে নেমেই একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনিকা তাবাসসুম নামের এক তরুণী বললেন, ‘অবশেষে রাজশাহী!’

আনিকা বলেন, ‘ঈদের সময় ট্রেনে বাড়ি ফেরাটা তো একটু যুদ্ধে জয়লাভ করার মত বিষয়। সেই যুদ্ধেই জয় করে এলাম। এ জন্য কষ্টটাও কম করতে হয়নি। ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছিলাম। পায়ে ব্যাথা ধরে গিয়েছিল। শেষমেষ রাজশাহী এলাম। ঈদটা শেষ করে আবার ঠিকমত ফিরতে পারলেই হয়।’

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ট্রেনগুলো প্রায় ঠিক সময়ইে রাজশাহী আসছে। কোন কোন সময় অল্প কিছু সময় হয়ত বিলম্ব হচ্ছে। ঈদের সময় সেটা বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। তবে তারপরও যাত্রীরা ফিরতে পারছেন এতেই স্বস্তি।

স্টেশনে ঢাকা থেকে আসা যার সঙ্গে কথা হয়েছে তিনিই জানিয়েছেন স্বস্তির কথা। একইভাবে রাজশাহীর ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকাতেও যাত্রীরা প্রাণের শহরে নেমে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তবে রাস্তায় কোথাও কোথাও যানজটের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

তুহিনুর আলম নামের এক ব্যক্তি সড়কপথে ঢাকা থেকে রাজশাহী এসে জানান, পুরো রাস্তা মোটামুটি ভালই আছে। কিন্তু কোথাও কোথাও কাজ চলছে। সে কারণে যানজট দেখা দিয়েছে। ছয় ঘণ্টার পথ পার হয়ে এসেছেন সাড়ে ৯ ঘণ্টায়। তাও তিনি খুশি।