ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ৬:০৩ পূর্বাহ্ন

প্রতি লিটার ভোজ্যতেলে বাড়তি ২৫ টাকা গুনতে হচ্ছে

  • আপডেট: Monday, April 25, 2022 - 11:32 am

অনলাইন ডেস্ক: পাম অয়েলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণায় ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। একদিনের ব্যবধানে সয়াবিনের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ২৫ টাকা বেড়েছে।

গত শনিবার ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণার পর একদিনের ব্যবধানে রোববার দেশের বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য হচ্ছে ১৩৬ টাকা। কোথাও এই দরে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সরকার প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু ওই দামে বাজারে পাম অয়েল পাওয়া যায়নি। এক মাস আগে ছিল ১৪০ টাকা লিটার। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০ টাকা। দুই দিন আগে ছিল ১৬০ টাকা। রোববার বাজারে প্রতি লিটার পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকা।

এদিকে, বাজারে সয়াবিনের সরবরাহও কম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিননের দাম বাড়ায় মিল মালিকরা আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সরকার তাদের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলছে, ঈদের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিকে ঈদ সামনে রেখে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ায় বাজারে এখন সয়াবিনের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে তার উল্টো কথা বলছে মিল মালিকরা। বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেলের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, তেল নিয়ে যাতে ঈদের আগে নতুন করে নৈরাজ্য না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দাম বেড়ে যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। আমরা ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করব। কোনো দেশ এখন যদি রপ্তানি বন্ধ করে, এতে দেশের বাজারে এখনই দাম বেড়ে যাওয়ার কথা নয়। কারণ এই প্রভাব বাজারে পড়তে সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পাশাপাশি ভোজ্যতেল নিয়ে যাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট না করতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত নজরদারি করা হচ্ছে। মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মিলে কী পরিমাণে মজুত আছে, সে হিসাব নেওয়া হচ্ছে। কী দরে আমদানি করা হয়েছে, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে। ঈদের পর সভা করে দাম বাড়ানো হবে কি না, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে। পরিস্থিতি যা হোক, তেল নিয়ে আর নৈরাজ্য হতে দেয়া হবে না।

এদিকে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার এ নিষেজ্ঞার কারণে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে। এরই মধ্যে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, সামনে আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে ১৬ লাখ টন পাম অয়েল এবং সাড়ে ৮ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি করে। অর্থাৎ সয়াবিনের প্রায় দ্বিগুণ পাম অয়েল আমদানি হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৭৪ কোটি ডলারের ৯ লাখ টন এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৮ কোটি ডলারের ২ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৬৬ লাখ ডলারের ৭ হাজার টন, চীন থেকে আড়াই লাখ ডলারের ২৭০ টন পাম অয়েল আমদানি হয়।

দেশের মোট চাহিদার ৭২ শতাংশ পাম অয়েল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি হয়। এখন ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করলে ভোজ্যতেলের বাজারে বড় সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের পাশাপাশি পাম অয়েলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়া তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে পাম অয়েলের দাম আরও বেড়েছে। রোববারও বন্ধের মধ্যেই পাম অয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। ওইদিন প্রতি টন ১ হাজার ৭৬৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশে সয়াবিন ও পাম অয়েলের চাহিদার চেয়ে বেশি মজুত রয়েছে। কিন্তু মিল মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে এখনই দাম বাড়াতে চাচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া নিজেদের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমাতে ও জোগান বাড়াতে গত শনিবার পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্ত আগামি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। যেসব তেল রপ্তানির জন্য জাহাজীকরণের পাইপলাইনে রয়েছে, সেগুলো রপ্তানি করা যাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এরপর থেকে আর তেল রপ্তানি করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া থেকে যেসব পাম অয়েল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যেসব এলসির অর্থ পরিশোধ করা তা দেশে আনার জন্য ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করছেন। তবে এখন আর নতুন এলসি খোলা হচ্ছে না। একই সঙ্গে নতুন করে এলসির অর্থ পরিশোধও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পাম অয়েলের ৩৯ শতাংশই রপ্তানি করে ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়া করে ২৭ শতাংশ। বাকি পাম অয়েল রপ্তানি করে অন্যান্য দেশ। তবে মালয়েশিয়া এখনো পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করেনি। দুটি দেশই পাম অয়েল উৎপাদন সোয়া ৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া উৎপাদন করবে ৪ কোটি ৭১ লাখ টন এবং মালয়েশিয়া করবে ১ কোটি ৮৯ লাখ টন।

সোনালী/জেআর