ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ১:৪৩ অপরাহ্ন

স্বস্তি ফিরল কাঁচাবাজারে

  • আপডেট: Friday, April 22, 2022 - 10:14 pm

 

স্টাফ রিপোর্টার: রোজার শুরুতেই ঊর্দ্ধমুখী ছিল রাজশাহীর কাঁচাবাজারের সবজির দাম। তবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে সব ধরনের সবজির। কমেছে মাছের দামও। কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে মাছ ও সবজির দাম। এতে ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেসগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা ঈদে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। বাজারে শাক-সবজির চাহিদাও কমেছে। আর এ কারণে ক’দিন ধরেই দাম কমতির দিকে।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগরীর মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিনেও লোকসমাগম কম। ক্রেতা কম বলে খুব একটা দরকষাকষি ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে শাক-সবজি। কয়েকদিন আগের তুলনায় কম দামেই ক্রেতারা কিনতে পারছেন। দুই সপ্তাহ আগেও উত্তাপ ছড়ানো বেগুন এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। দুই সপ্তাহে বেগুনের দাম কমেছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। কেজিতে ৫০ টাকা কমে শসা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

এছাড়াও বাজারে এখন গাঁজর ২৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, করলা ৮০ টাকা, সজনা ৫০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা ও লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে কিছু সবজির দাম। এরমধ্যে প্রতি কেজি বরবটি এখন আগের মতই ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং কলা প্রতি হালি এখন ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া পুঁইশাক ২৫ টাকা, লালশাক ৩০ টাকা, পালং শাক ২৫ টাকা ও সবুজ শাক ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে স্বস্তি এনেছে পেঁয়াজ এবং কাঁচা মরিচের দামও। বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। আর ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা মরিচ। এছাড়াও রসুন ৮০ টাকা ও আদা ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে মাছের দামও। বাজারে প্রতি কেজি বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ছোট ইলিশ মিলছে ৫০০ টাকায়। এছাড়া বোয়াল ৯০০ টাকা, বাটা মাছ ২০০ টাকা, রুই ২২০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকা, পাবদা ৪৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০ টাকা, বিদেশি কৈ ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, পুটিমাছ ৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৬০ টাকা, আইড় ৭৫০ টাকা ও রুপচাঁদা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সব মাছের দামই আগের চেয়ে কম।

বাজারে সব ধরনের মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা। বাজারে এখন দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকায়। এছাড়াও সাদা লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা, সোনালী মুরগি ২৫০ টাকা, লাল লেয়ার ২৪০ টাকা এবং পাতিহাঁস ৩২০ টাকা ও রাজহাঁস ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায়। আর খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। গরু ও খাসির মাংসের দাম প্রায় একই আছে। অপরিবর্তিত ডিমের দামও। বাজারে এখন প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৫৫ টাকা, পোল্ট্রির সাদা ডিম ২৭ টাকা ও লাল ডিম ৩০ টাকা হালি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ডিমের দামও কমতে পারে।

তবে বাজারে এখনও কমেনি চালের দাম। প্রতি কেজি স্বর্ণা ৪৬ টাকা, আটাশ ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৬৬ টাকা, নাজিরশাইল ৭৮ টাকা, কাটারিভোগ ৯০ টাকা, শম্পা কাটারি ৭০ টাকা, জিরাশাল ৬২ টাকা, বাসুমতি ৭৫ টাকা, চিনিগুঁড়া ১১০ টাকা ও কালজিরা আতপ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। নতুন ধান না উঠলে চালের দাম কমবে না বলছেন ব্যবসায়ীরা।

সবজি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, মেসের ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়ি চলে গেছে ঈদ করতে। তাই সবজির বিক্রি কম। আবার ঈদের আগে টাকা দরকার বলে কৃষক বেশি করে সবজি তুলছেন। ফলে বিক্রির চেয়ে আমদানি বেশে হয়ে গেছে। এ কারণে সবজির দাম কম। একই কথা বলেছেন মাছ ব্যবসায়ীরাও। সবজির ক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, সবজি আর মাছের দাম কমেছে। এটা ভাল। কিন্তু মাংস আর চালের দাম কমল না।