ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪ - ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

মানুষকে সুবিধাবঞ্চিত করাই কি সরকার হটানোর উদ্দেশ্য

  • আপডেট: Wednesday, April 20, 2022 - 4:45 pm

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে, এটা ভালো লাগেনি বলেই কি আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে চাওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষকে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করাই সরকার হটানোর উদ্দেশ্য কিনা সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বুধবার (২০ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রমজান মাসে করোনার সময় অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এক কোটি পরিবারকে স্বল্প মূল্যে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছি। তাছাড়া ৫০ লাখ পরিবার যাতে ১০ টাকা মূল্যে চাল কিনতে পারে, সে জন্য কার্ড দেওয়া আছে। এছাড়াও ভিজিডি, ভিজিএফ এর মাধ্যমে আমরা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে থাকি, বিনা পয়সাও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে থাকি। আর কৃষকরা যাতে ন্যাযমূল্য পায়, সে ব্যবস্থাটাও আমরা চালু রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয়ে একটু বলতে চাই—আমি প্রায়ই শুনি বক্তৃতায় আমাদের উদ্দেশ্যে কিছু নেতারা আছেন, দুঃসময়ে মানুষের পাশে কতটুক দাঁড়িয়েছেন সেটা জানি না। করোনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে একটু সাহায্য করবে সে লক্ষ্য আমরা দেখি নাই। তবে তারা খুব আন্দোলনের জন্য ব্যস্ত, এই সরকারকে হটাতে হবে। কোন সরকার? আওয়ামী লীগ সরকার। এখানে বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন, আমাদের মান্না সাহেব, ড. কামাল হোসেনসহ তাদের এক গ্রুপ। সেই সাথে আবার তাদের সাথে যুক্ত কমিউনিস্ট পার্টি এবং আমাদের বাম দল বাসদ-টাসদ কারা কারা তারা সবাই মিলে নাকি আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাবে। আমার প্রশ্ন অপরাধটা কি আওয়ামী লীগের? আমরা ২০০৮ এর নির্বাচনে সরকারে এসেছিলাম। সেই নির্বাচনে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণকে তারা বার বার আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমাদের যে লক্ষ্য সে লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি। স্বল্প উন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছি। আমার প্রশ্ন—এটা কি তাদের কাছে ভালো লাগেনি? সে জন্য তারা এই সরকারকে হটাতে চায়?

সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমরা অর্জন করেছি। আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভুমিহীনদের ঘর দিচ্ছি, জমি দিচ্ছি এবং বিনামুল্যে দিচ্ছি। মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি করেছি, মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা কি আওয়ামী লীগের অপরাধ, এই জন্য কি এই সরকার হটাতে হবে? প্রত্যেকটা মানুষের ভাগ্যের যাতে পরিবর্তন হয় সে ব্যবস্থা করেছি। আজকে দারিদ্র্যসীমা হ্রাস পেয়েছে। করোনাকালেও দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। আরও বহু কাজ আমরা করে যাচ্ছি, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, যে কাজগুলি আমরা করে যাচ্ছি, এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তারা যে সরকার উৎখাত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যটা কী? এই মানুষগুলোকে এই সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া? এটাই তাদের লক্ষ্য, এটাই তাদের উদ্দেশ্য, সে জন্যই শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে হবে? আমার এটাই প্রশ্ন তাদের কাছে যে, অপরাধটা কী করেছি আমরা? তারা লুটাপট করে খেয়েছে, মানুষ খুন করেছে, তাদের হাতে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন। তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষকে হত্যা করেছে, সে কথা মানুষ ভুলে যায় কীভাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আধুনিক জ্ঞান প্রযুক্তি সম্পন্ন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল তখন আমাদের দেশের কিছু মানুষ বিদেশের কাছে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত, সরকারের উৎখাত করতে ব্যস্ত। খুব ভালো কথা তাদের কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরুক যে তারা দেশের মানুষের জন্য কী করতে চায়। আমরা দেশের মানুষের জন্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে গড়ে উঠবে, ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে তার জন্য একশ বছরের ডেল্টাপ্ল্যান আমরা দিয়েছি।

কৃষক লীগকে অতীতের মতো আগামীতেও কৃষকের পাশে থাকাার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনারা কৃষকের পাশে থাকবেন, তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করবেন। নতুন নতুন দাবি তোলা লাগবে না, কৃষকের জন্য কীসে মঙ্গল সেটা আমরা ভালোভাবেই জানি এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষকই আমাদের প্রাণশক্তি। কৃষকরা আমাদের কাছে অনেক সম্মানের। আবারও ধান কাটার সময় কৃষকের পাশে দাঁড়াবেন—এই আহ্বান জানাই।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. মির্জা আব্দুল জলিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান হাওলাদার, হারুণ অর রশীদ, মোতাহার হোসেন মোল্লা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।

সোনালী/জেআর