ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ৬:২৫ পূর্বাহ্ন

চাঁপাইয়ে শিলাবৃষ্টিতে চাষিরা খুশি

  • আপডেট: Monday, April 18, 2022 - 11:02 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: কয়েকদিন ধরেই তাপদাহে চিন্তিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা। অপেক্ষা করছিলেন একটু বৃষ্টির। অবশেষে তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বস্তি দিয়েছে প্রকৃতি। বৈশাখের একটু বৃষ্টিতে স্বস্তির নিংশ্বাস ফেলেছেন জেলার আমচাষিরা।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর নামে স্বস্তির বৃষ্টি। ১৫ থেকে ২৫ মিনিট ব্যাপী হালকা বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টির সাথে হালকা বা মাঝারি শিলাবৃৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। তবুও বৈশাখের প্রথম এই বৃষ্টিতে সামগ্রিক ভাবে আম চাষের জন্য সহায়ক বলে মনে করছেন গবেষক ও কৃষি বিভাগ এবং আম সংশ্লিস্টরা।

সদর উপজেলার আমচাষি মুনজের আলম মানিক জানান,‘ এখন সব গাছেই গুটি অবস্থায় রয়েছে আম। কয়েকদিন ধরেই তীব্র রোদ ও খরায় আমের গোড়া শুকিয়ে ঝরে পড়ার একটা আশংকা ছিলো। বৃষ্টি হওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যদিও হালকা শিলাবৃষ্টিতে কিছু আমের ক্ষতি হবে, তবে ক্ষতি হলেও তা আমের জন্য আর্শীবাদ।’

শিবগঞ্জের আমচাষি ইসমাইল খান শামীম জানান,‘এই বৃষ্টি আমের ফলন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ আম উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃষ্টির ফলে মহালাগা এবং পোকার আক্রমণ দুর হবে এবং ঝরে পড়ার হাত থেকে আম রক্ষা পাবে। আমের গোড়া শক্ত হবে এবং আম দ্রুত বড় হবে।’

শিবগঞ্জের আরেক আম চাষি, আব্দুস সামাদ জানান,‘ শিলাবৃষ্টিতে আমের কিছু ক্ষতি হলেও, শিলাবৃষ্টিতে বড় ধরনের তেমন ক্ষতির আশংকা আমরা করছিনা। তবে কয়েকদিন ধরে চলমান তাপদাহে আমে মহা লাগায় আমরা চিন্তিত ছিলাম। বৃষ্টিতে গাছ ধুয়ে যাওয়ায় এই বৃষ্টি প্রতিশেধক হিসেবে আমাদের খুব কাজে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন আম গুটি অবস্থা থেকে কিছুটা বড় হয়েছে। সেহেতু যেসব এলাকায় মাঝারি শিলাবৃষ্টি হয়েছে; সেসব এলাকায় আমের ক্ষতি কিছুটা হতে পারে। তবে ক্ষতি কিছুটা হলেও, খুব বড় ধরনের কিছু হবেনা বলেই আমরা মনে করছি।’

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ‘রাত পৌনে আটটার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, দূর্লভপুর, বিনোদপুর ও শ্যামপুর এলাকার কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির মাঝে মাঝারি শিলাবৃষ্টি হয়েছে ৫ থেকে ৭ মিনিট। তবে উপজেলার সব জায়গায় শিলাবৃষ্টি হয়নি। এতে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও, এই শিলাবৃষ্টি আমের জন্য খুবই উপকারী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন,‘ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় মূলত বৃষ্টি এবং বৃষ্টির মাঝে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আর নাচোল, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ২৫ মিঃ মিঃ বৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তিনি আরও জানান, ‘এই বৃষ্টি পাট চাষের জন্যও উপকারী। তবে ক্ষয়ক্ষতি যাইহোক এই বৃষ্টি আম, ধান ও অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের জন্য খুবই উপকারী হবে।