ঢাকা | জুলাই ২৪, ২০২৪ - ১২:৫৮ অপরাহ্ন

উত্তরের ঈদযাত্রায় এবারও ভোগান্তির শঙ্কা

  • আপডেট: Monday, April 18, 2022 - 12:22 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২২ জেলার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম রুট বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়ক। প্রতিদিন গড়ে এ পথে ১২-১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

ঈদে এ সংখ্যা বেড়ে দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত হয়। ফলে প্রতিবছর ঈদযাত্রায় এ সড়কে যাত্রীদের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। কখনো ধীরগতি, কখনো তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পাশ থেকে জেলার সব মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত গাড়ির চাপের পাশাপাশি এ রুটে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ জরাজীর্ণ নলকা সেতু। এ সেতুটিকে ঘিরেই সৃষ্টি হয় যানজট আর ধীরগতি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি ঈদের আগেই খুলে দেওয়া হবে নবনির্মিত নলকা সেতুর একটি লেন। খোলা থাকবে পুরাতন সেতুটিও। কিন্তু এবার নলকা সেতুর পাশাপাশি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করলেও উত্তরের ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। কিছুটা নিশ্চিত হলেও শঙ্কায় রয়েছে হাইওয়ে পুলিশও।

রোববার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে মহাসড়কের নলকা এলাকায় দেখা যায়, নতুন একটি সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। সেতুর ওপরে স্প্যান বসানোর কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। চলছে ওপরের রেলিংসহ দুদিকে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ।

জানা যায়, সাসেক সংযোগ সড়ক-২ প্রকল্পের এলেঙ্গা-রংপুর ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের আওতায় সিরাজগঞ্জ অংশে রয়েছে ৪৩ কিলোমিটার। বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বর থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত প্রকল্পটি হেগো-মীর আখতার হোসেন জেভি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বর-ধোপাকান্দি পর্যন্ত ১৯.৮ কিলোমিটার প্যাকেজটিতে নলকা সেতু ছাড়াও ৭টি সেতু রয়েছে। ৬৪৯ কোটি টাকার এই প্যাকেজে দেশ-বিদেশের ১১ জন কনসালটেন্ট নিয়োজিত আছেন। চলতি বছরের মার্চে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও তা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের কনসালটেন্ট (ব্রিজ) প্রকৌশলী ওসমান হাসান জানান, ২৯৭ মিটার দৈর্ঘ্যের নলকা সেতুর দুদিকে ২৭০ মিটার করে এপ্রোচ সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর একটি লেন ২৫ এপ্রিলেই খুলে দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, কোরিয়া ও জাপানের কনসালটেন্ট নিয়োজিত রয়েছেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেনের ডেপুটি ম্যানেজার শের শাহ্পুরী জানান, নলকা সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ চলছে। এখন রং ও রেলিং স্থাপনসহ সৌন্দর্যবর্ধণ কাজ বাকি আছে। সেগুলো শেষ করতে এক-দেড়মাস লাগতে পারে। কিন্তু ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের সুবিধার্থে ২৫ এপ্রিলই ঢাকা-উত্তরবঙ্গগামী লেনটি খুলে দেওয়া হবে। আর পুরাতন সেতু দিয়ে ঢাকাগামী যানবাহন চলবে।

এদিকে মহাসড়কে ঝূঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংস্কার কাজ চলতে থাকলেও এতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না উত্তরাঞ্চলগামী পরিবহনের শ্রমিকরা। তাদের দাবি প্রতিবছরই আশ্বস্ত করা হয়, কিন্তু ফলাফল হয় তার উল্টো।

কথা হয় শ্যামলী পরিবহনের চালক হাসমত আলী, ট্রাকচালক ইব্রাহিম, এসএ পরিবহনের হেলপার রনিসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তারা বলেন, নলকা সেতুটি উত্তরের যাত্রায় গলারকাঁটা হয়েছিল। নতুন সেতুটি চালু হলে অনেকটা স্বস্তি আসবে। তবে সেতুটি আদৌ চালু হবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে শংকা রয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু স্থানে চারলেনের কাজের কারণে একটি লেন চালু রয়েছে, এগুলো ঠিক করা না হলে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ চলমান থাকায় অনেক স্থানে মহাসড়ক সরু হয়েছে। সব গাড়ি চলছে এক লেন দিয়ে। যে কারণে যানবাহনগুলোর স্বাভাবিক গতি কমে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। নলকা সেতু থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত এমন ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ৪টি স্থান হলো নলকা, পাঁচলিয়া, চান্দাইকোনা ও ঘুড়কা বেলতলা। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি, তারাও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবুও নির্ধারিত সময়ে ঝূঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংস্কার সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি।

তিনি বলেন, ঈদে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের নিরাপত্তায় আড়াই শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, সয়দাবাদ ও মুলিবাড়ী এলাকা ঝূঁকিপূর্ণ। বেশ কিছু স্থানে সংস্কার করা হয়েছে।

সংযোগ সড়ক সাসেক-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হাসান মাসুদ বাপ্পী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাজ করা হয়েছে। যেখানে ফোরলেনের কাজ চলছে তার সঙ্গে দুই লেনের ডাইভারশন রোড প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে যেখানে দুই লেনের সড়ক রয়েছে, সেখানে সমস্যা হলে, সে দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তাবে না।

তিনি বলেন, ২৫ তারিখে নলকা সেতুর এক লেন ছেড়ে দেওয়া হবে। আর পুরাতন সেতু দিয়ে ঢাকামুখী যান চলাচল করবে।

সোনালী/জেআর