ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১:০৭ পূর্বাহ্ন

দুই কৃষকের আত্মহত্যা: জেরায় যা বললেন নলকূপের অপারেটর

  • আপডেট: Monday, April 11, 2022 - 1:32 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই কৃষকের আত্মহত্যার পর গ্রেপ্তার হওয়া সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন, ওই দুই কৃষক তার নলকূপের সামনে আত্মহত্যা করেননি।

রাজশাহীর কারাফটকে করা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এ কথা বলেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন গভীর নলকূপের অপারেটর ছিলেন। তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীর বলছেন, নিজের নলকূপের সামনে থেকে অভিনাথের মরদেহ ভ্যানে করে সাখাওয়াতই বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন।

গত ৬ ও ৭ এপ্রিল কারাফটকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন সাখাওয়াত। এ সময় অনেক প্রশ্নেরই সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম গতকাল রোববার এ তথ্য জানান।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দুটি তদন্ত করছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাফুজুল হক। আদালতে আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়ে তিনি দুই দিন সাখাওয়াতকে জেরা করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সাখাওয়াত দাবি করেন, কৃষক অভিনাথ মারান্ডি ও তার চাচাতো ভাই রবি মারান্ডি কোথায় বিষপান করেছেন, তা তিনি জানেন না।

এর আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গোদাগাড়ী পরিদর্শনের সময় স্থানীয় এক ভ্যানচালক কমিটিকে বলেছিলেন, গভীর নলকূপের সামনেই বিষপান করেন অভিনাথ। তখন অপারেটর সাখাওয়াতই তাকে ভ্যান নিয়ে যেতে দেখে ডাকেন। এরপর তারা দুজন মিলে অভিনাথকে নলকূপের সামনে থেকে ভ্যানে তুলে বাড়িতে এনে নামিয়ে দেন। আর রবি একাই নলকূপের সামনে থেকে হেঁটে বাড়ি এসেছিলেন বলে তদন্ত কমিটিকে জানান তার ভাই সুশীল মারান্ডি।

জেরার সময় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ থেকে কৃষকদের পানিবণ্টনে অনিয়ম, সিরিয়াল না মানা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সাখাওয়াত কোনো প্রশ্নেরই সদুত্তর দিতে পারেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা জানতে চেয়েছিলেন, পানি কোন কৃষককে কত দিন পর দেওয়া হচ্ছে, তা খাতায় লেখা হয় কি না এবং একজন কৃষককে যে সিরিয়াল অনুযায়ীই পানি দেওয়া হয়েছে, তার নিশ্চয়তা কী? জবাবে সাখাওয়াত জানান, খাতায় কিছু লিখিত নেই। তবে সিরিয়াল কীভাবে নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে সাখাওয়াত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ওসি কামরুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনা তদন্তে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এলে বিএমডিএ কর্মকর্তারা জানান, ২১৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য ওই গভীর নলকূপ। বাস্তবে চাষ হয়েছে ২৬৫ বিঘা। সাখাওয়াত ও বিএমডিএর হিসাব কেন মিলছে না, সে প্রশ্নেরও সদুত্তর দিতে পারেননি চাকরিচ্যুত এই অপারেটর।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ নিমঘুটু গ্রামের কৃষক অভিনাথ ও তার চাচাতো ভাই রবি বিষপান করেন। এতে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, বোরো ধানের জমিতে পানি না দেওয়ার কারণে তারা দুজন বিষপান করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেটর সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দুটি মামলা করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে দুদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। সে অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

এদিকে ঘটনা তদন্তে বিএমডিএ আলাদা একটি কমিটি করেছিল। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিএমডিএর তদন্ত প্রতিবেদনে সাখাওয়াতের নানা অনিয়ম উঠে এসেছে। তাই সেদিনই সাখাওয়াতকে চাকরিচ্যুত করে বিএমডিএ। নলকূপে পানি নিয়ে হয়রানির কথা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলেও কেন দুই কৃষক বিষপান করেছেন, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তাই দুই কৃষকের পরিবারে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।