ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৪ - ৭:০১ অপরাহ্ন

বইয়ের পাতায় ভয়ংকর ‘এলএসডি’ মাদক

  • আপডেট: Sunday, April 10, 2022 - 8:15 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: রায়হান সাদ। বাংলাদেশি এই যুবক দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। নয় বছর পর গত ২২ মার্চ দেশে আসেন তিনি। সঙ্গে আনেন একটি বই। আপাত দৃষ্টিতে নোটবুক। কিন্তু তার পাতায় পাতায় ভয়ংকর মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড বা ‘এলএসডি’!

দক্ষিণ আফ্রিকাফেরত যুবক এই মাদকদ্রব্য নিয়ে এসেছেন দেশে বিক্রি করার জন্য। র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার আগে বইয়ের মাদক বেশির ভাগ বিক্রি করে ফেলেছেন তিনি। এ ধরনের একেকটি স্ট্রিপ আট হাজার টাকা করে বিক্রি হয় বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব।

র‌্যাব যখন রায়হানকে আটক করে, তার কাছে পাওয়া যায় এলএসডির ৯৬টি রঙিন প্রিন্টেড ব্লট পেপার স্ট্রিপ। এ ছাড়া তিনটি ক্রেডিট কার্ড, দুটি ডেবিট কার্ড, একটি ইন্টারন্যাশনাল ও দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দ করা হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব।

র‌্যাবের তথ্যমতে, ফেনীর সোনাগাজীর কাশ্মীর বাজার এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে রায়হান। গত ২২ মার্চ সপরিবারে দেশে আসেন তিনি। তার ব্যাগের ভেতর একটি নোটবুকে নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদক ‘এলএসডি’ লুকিয়ে রাখা ছিল অভিনব কায়দায়। বিমানবন্দরে সেটি শনাক্ত হয়নি।

রায়হান এই মাদক ব্যবসা চালাতেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক সব ধরনের কাজকর্ম পরিচালিত হতো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে।‌ তার মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকার নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করা। দেশের অন্য একটি ফোনের হটস্পটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা রায়হানের মাদক কারবারির পেছনে আরেকজনের নাম পেয়েছি। তিনিও রায়হানের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতেন। তার বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। ‌এই মাদক (এলএসডি) এত সহজে বহনযোগ্য যে বোঝা খুব কঠিন। দেখে মনে হবে একটি স্টিকার। এটা ডিটেক্ট বা শনাক্ত করা খুব কঠিন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রায়হান দেশে আসার সময় আইস সঙ্গে নিয়ে আসেন।’

ইদানীং দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে বিক্রি করতেন রায়হান। হেরোইন, ইয়াবা সহজে শনাক্ত করা যায়, আবার আমরাও এসব মাদকের সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু এলএসডি একটি ছোট্ট স্টিকারের মতো। রায়হান এই মাদক নিয়ে এসেছিলেন একটি বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে। দেখে কারো ধরার শক্তি নেই যে এগুলো ‘এলএসডি’।

এই মাদক ব্যবসায় রায়হানের সম্পৃক্ততা কত দিনের- এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল রায়হান ২০০টির মতো এলএসডি দেশে নিয়ে এসেছেন। আমরা ৯৬টি এলএসডির স্ট্রিপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে, বাকিগুলো বিক্রি করেছেন তিনি।’

রায়হানের নামে বড় কোনো মামলা পাওয়া যায়নি জানিয়ে র‌্যাব-১০ অধিনায়ক বলেন, ‘তবে জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান স্বীকার করেছে তার নামে বিশেষ আইনে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। কিন্তু আমরা সেটি এখনো পরীক্ষা করতে পারিনি।’

এলএসডি মাদক আটকের ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর তাকে থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানান মাহফুজুর রহমান।