ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৪ - ৫:১৫ পূর্বাহ্ন

হাওরের বাঁধ ভেঙে ডুবছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

  • আপডেট: Wednesday, April 6, 2022 - 11:22 am

অনলাইন ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার তাল এবং শাল্লার পুটিয়ার হাওরের বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন ডুবে গেছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় এই দুটি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রবলবেগে পানি ঢুকে তলিয়ে যায় হাওর। ধর্মপাশার বাঁধের কাজ অসময়ে হয়েছিল বলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল আহমদ দাবি করেছেন।

সোমবার রাত থেকে এই হাওরের ডুবাইল অংশের বরুণ কাইচ্ছা বাঁধে ধস শুরু হয় এবং বাঁধের নিচ দিয়ে পানি ঢুকতে থাকে। স্থানীয় কৃষকরা প্রাণপন চেষ্টা করে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাঁধ আটকে রাখেন।

হাওর পার্শ্ববর্তী জৈনপুরের গ্রামের কৃষক কাশেম মিয়া জানালেন, শত শত কৃষক এই বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন। কংস নদের পানি উপচে হাওরে ঢুকে ফসল তলিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম এই বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং বাঁধ রক্ষায় সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

একই গ্রামের কৃষক কাঞ্চন ও শাহীন আলম নিজেদের সর্বনাশের কথা জানিয়ে বললেন, এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নেই তাদের। কাঞ্চন বললেন, দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জমি চাষ করেছেন তিনি। এখন ঋণ দেবেন কীভাবে, পরিবারের কী অবস্থা হবে? কৃষক শাহীন আলম বললেন, ৫ একর জমির সবই পানিতে ডুবেছে।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুবেল আহমদ এই বাঁধ ভাঙায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, বারহাট্টার কিছু অংশের ফসল ডুবে যাবে বলে জানান। তার দাবি বাঁধ ভাঙায় কমপক্ষে ২০০০ হেক্টর ফসল ডুববে। তিনি বললেন, ১০-১২ দিন আগে এই বাঁধের কাজ হয়েছে। বাঁধের কাজ করেছে দয়ালপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। সে কৃষক নয়, তাকে কীভাবে কাজ দেওয়া হলো আমরা জানি না। অসময়ে এই বাঁধ হওয়ায় পানির প্রথম ধাক্কায়ই ভেঙে গেছে।

স্থানীয় সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন বললেন, বাঁধের যে অংশে ফাটল ধরেছিল, সেই অংশ মেরামত করতে করতে বিকেলে অন্য অংশ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু হয়। বাঁধের কাজ কারা করেছে আমি জানি না, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেই কাজ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনতাসির হাসান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে কারা ছিল এই বিষয়ে কাগজ না দেখে বলা যাবে না। বাঁধের কাজ ঠিকঠাকভাবেই হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালেও বাঁধের কাজ না হওয়ায় প্রথম ধাক্কায় সুনামগঞ্জের চন্দ্রসোনার তাল হাওর ডুবেছিল। এদিকে, জেলার শাল্লার পুটিয়ার হাওরের বাঁধ ভেঙে প্রায় ২০০ একর ফসল তলিয়ে গেছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় এই বাঁধ ভেঙে যায়।

শাল্লা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু জানালেন, দাড়াইন নদীর পানি উপচে মুক্তারপুর সেতুর পাশের বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে। এই বাঁধটিও সকাল থেকে রক্ষার চেষ্টা করছিলেন কৃষকরা। কৃষকদের ২০০ একর জমি পানিতে ডুবেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, চন্দ্রসোনার তাল হাওর ডুবে ১৮৫ হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহরুল ইসলাম ফোন না ধরায় এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

সোনালী/জেআর