ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৪ - ১০:৩৩ অপরাহ্ন

পাবনায় আত্মহত্যার ঘোষণা দিলেন প্রাথমিক শিক্ষক

  • আপডেট: Wednesday, April 6, 2022 - 12:39 pm

অনলাইন ডেস্ক: পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরে অবস্থিত ভদ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) বিদ্যালয়ে বিরুপ কর্মপরিবেশের কারণে আত্মহত্যা করবেন বলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

কয়েকদিন আগে ওই শিক্ষক এ ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ওই শিক্ষক দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্যর মানসিক নির্যাতনে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে এমন ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খাঁন বিষয়টি অবগত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ৫ বছর আগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ভদ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান। বিদ্যালয়ের যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার সাথে বিরুপ আচরণ করে আসছেন। এর সাথে যোগ দেন প্রধান শিক্ষকের বন্ধু ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি)’র সদস্য জাহিদুল ইসলাম।

সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার বিকেলে আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ওই দুজন ( প্রধান শিক্ষক ও এসএমসি সদস্য) মিলে তার ওপর প্রতিদিন মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। পাঠ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও তিনি যখন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন তখনও ওই দুজন তাকে কটাক্ষ করেন।

তিনি জানান, তিনি যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যান তারপরও তাকে অপমান করা হয়। তিনি বলেন, একজন মানুষ যতটুকু অতিষ্ঠ হলে আত্মহত্যা করতে চান তার অবস্থা এখন সেই পর্যায়ে চলে গেছে। তিনি জানান, তাকে বদলি করে দেয়া হলেও অন্তত: তিনি প্রাণে বাঁচবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দুজনই একই ভদ্রপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। বিরোধের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে তা ফলপ্রসু হয়নি। ধারাবাহিকভাবে ওই সহকারী শিক্ষককে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। জাহাঙ্গীর কখনও প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক আরও চড়াও হয়েছেন।

এদিকে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের ইন্ধনে এসএমসি সদস্য জাহিদুল ইসলাম তাকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়েও তার সামনে দাঁড়িয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি কয়েকদিন আগে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে বলেছেন তার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই।

এতদিন তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন না হলেও এবারে ওই শিক্ষকের আত্মহত্যার ঘোষণা দেয়ার পর বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এ ব্যপারে ভাঙ্গুড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই সহকারী শিক্ষকের অভিযোগ ও আবেগময় ঘোষণা জানার পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছেন’ বলে সংযোগ কেটে দেন।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকের সাথে কথা বলে তাকে শান্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথেও বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলছেন।

তিনি জানান, বুধবার তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করবেন। তখন বিষয়টি বিস্তারিত জেনে এর একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সোনালী/জেআর