ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ৭:২৩ অপরাহ্ন

নায়ক সোহেল হত্যা মামলার আসামিরা কে কোথায়?

  • আপডেট: Wednesday, April 6, 2022 - 8:00 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্র অভিনেতা সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় নয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছিল ডিবি পুলিশ। আলোচিত এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চারজন পলাতক এবং বাকিরা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে বনানীর ট্রাম্পস্ ক্লাবের নিচে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওইদিন নিহতের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ৫৯।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর অনৈতিক কার্যক্রম ও উচ্চশব্দে গান-বাজনা চলত বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবে। এরই প্রতিবাদ করেছিলেন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী। এই ঘটনায় আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গেও বাক-বিতণ্ড হয় তার। প্রকাশ্যে অপমান করার প্রতিবাদে সোহেল চৌধুরীকে উচিত শিক্ষা দিতে ওই ক্লাবের স্বত্ত্বাধিকারী আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী ও আসাদুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলামের যৌথ পরিকল্পনায় হত্যা করা হয় সোহেল চৌধুরীকে। হত্যার দায়িত্ব নেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। তিনি তৎকালীন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দায়িত্ব দেন। ইমনসহ তার গ্যাংরা গুলি করে হত্যা করে নায়ক সোহেল চৌধুরীকে।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হন আশিষ। এ নিয়ে ওই মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন চারজন। তাদের মধ্যে কানাডায় রয়েছেন- আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম, থাইল্যান্ডে আজিজ মোহাম্মদ ভাই, মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়ে আমেরিকায় পালিয়ে গেছেন আদনান সিদ্দিকী ও ব্যবসায়ী সেলিম খান। এছাড়া এই মামলায় ফারুক আব্বাসী, হারুনুর রশিদ ওরফে লেদার লিটন, সানজিদুল ইসলাম ইমন ও তারেক সাঈদ গ্রেপ্তার হন। এরমধ্যে ইমন অন্য একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সবশেষ মঙ্গলবার আশিষ রায় চৌধুরী গ্রেপ্তার হন।

পলাতক আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আশিষ রায়ের

আশিষ রায় অসংখ্যবার বিদেশে গেছেন। তিনি কানাডায় ৪/৫ বছর ছিলেন। দেশটির সিটিজেন তিনি। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে মিরপুরে বাস করতেন। নিজের গ্রেপ্তার এড়াতে কানাডায় পালাতে চেয়েছিল আশিষ। গত ২৮ মার্চ তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ৭ এপ্রিল কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। নিজের বাসা ছেড়ে গুলশানে একটি বাসা ভাড়ায় ওঠেন। যেটি একটি পাঁচতারকা হোটেলের এমডি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। সেখানে থেকে কানাডায় যেতে তিনি একটি এয়ারলাইন্সের টিকিটও কাটেন। যদিও পালানোর আগেই তিনি গ্রেপ্তার হন।

১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই নয়জনের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে ২০০১ সালে ৩০ নভেম্বর মামলায় অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। পরে মামলা বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়। মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলার এক নম্বর আসামী আদনান সিদ্দিকী দুই বছর পর হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট পুনরায় আরেকটি রায় দেন। এই রায়ে পূর্বের জারি করা রুলটি খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রত্যাহার করা হয় হাইকোর্ট এর স্থগিতাদেশ।

সম্প্রতি আদালত থেকে পরোয়ানা জারির একমাস পর র‌্যাব সেটি হাতে পায়। থানায় পরোয়ানার কপি গেলেও সেটি অজ্ঞাত কারণে নিখোঁজ হয় বলে অভিযোগে ওঠে।

এসব বিষয়ে আশিষ রায়ের কোনো হাত ছিল কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মুখপাত্র কমান্ডার মঈন বলেন, ‘আমরা পরোয়ানার কপি স্ব-উদ্যোগে সংগ্রহ করেছি। পরোয়ানার তথ্য পেয়ে তিনি নিকটজনদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তারা আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন নিতে বলেন। তবে আশিষ কানাডায় পালাতে চেয়েছিলেন। পরোয়ানার কপি থানা থেকে নিখোঁজ হওয়া বা দাপ্তরিক কোনো জটিলতা হয়ে থাকলে সেটা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবেন।’