ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ৬:৩৪ পূর্বাহ্ন

সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে সংসদে বিল

  • আপডেট: Tuesday, April 5, 2022 - 7:34 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে একটি নতুন বিল সংসদে তোলা হয়েছে। সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বৈষম্যবিরোধী বিল, ২০২২’ সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার সংসদে আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে তা ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে কোনো বৈষম্যমূলক কাজ ঘটলে ভুক্তভোগী বা ঘটনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন। ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে জেলা কমিটি।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে আইনমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি মনিটরিং কমিটি থাকবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সচিবের মনোনীত অন্যূন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মনিটরিং কমিটির সদস্য হবেন। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব এই সদস্যসচিব হবেন। কমিটিকে প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি বৈঠক করতে হবে।

এছাড়া কমিটিতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, মানবাধিকার ও সমাজসেবায় জড়িত এমন সংগঠনের তিনজন, দুজন শ্রমিক প্রতিনিধি, যার মধ্যে একজন চা-শ্রমিক হবেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের চারজন প্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি, দলিত সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন।

এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অধীনে একটি বৈষম্যবিরোধী সেল এবং বৈষম্যবিরোধী জাতীয় ও স্থানীয় কমিটি গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে।

বৈষম্য হলে যেভাবে অভিযোগ করা যাবে

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, বৈষম্যমূলক কাজ ঘটলে ভুক্তভোগী বা ঘটনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। এই কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে।

জেলা কমিটি প্রতিকার করতে না পারলে বিভাগীয় কমিটির কাছে আর এই কমিটি যদি প্রতিকার করতে না পারে অভিযোগকারী জাতীয় কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, জাতীয় কমিটি যদি প্রতিকার করতে না পারে তবে আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে। দেওয়ানি কার্যবিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, মামলা দায়েরের পর ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে আরও ১৫ দিন সময় পাবেন আদালত। আদালত যথাযথ প্রতিকারের আদেশ এবং প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।