ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৪ - ৯:৫১ অপরাহ্ন

টিপকাণ্ডে পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল বরখাস্ত

  • আপডেট: Monday, April 4, 2022 - 8:02 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় এক শিক্ষককে কপালে টিপ পরা নিয়ে ‘কটূক্তি’র অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিএমপির একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কটূক্তির অভিযোগ তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারের (এডিসি) নেতৃত্বে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম সোমবার সকালে জানান, নাজমুল তারেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষক যে জিডি করেছেন, তারও যথাযথ তদন্ত হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া জানান, কনস্টেবল নাজমুল তারেক পুলিশের প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত।

এর আগে টিপ পরায় পুলিশের হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশের পোশাক পরা একজনের বিরুদ্ধে ‘ইভটিজিং’ এবং ‘প্রাণনাশের চেষ্টা’র অভিযোগ করা হয় জিডিতে।

এদিকে হেনস্তার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে প্রকৃত ঘটনা জানতে মাঠে নামে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ। দুই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট, দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয়। পুরোপুরি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ নাজমুল তারেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি ডিএমপির প্রোটেকশন বা সুরক্ষা বিভাগে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি যশোর। তার বিরুদ্ধে ওই শিক্ষিকার জিডির তদন্ত চলছে।

এর আগে আজ সোমবার দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘তারেকের সঙ্গে কথা বলেছি, সে বলেছে ঘটনার দিন ভদ্রমহিলার সঙ্গে একটি ঘটনা ঘটেছে। এখন শিক্ষিকা যে জিডি করেছেন, সেটা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনবো।’

পুলিশ সদস্যের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কি চুরির, এমন কোনো তথ্য মিলেছে কিনা- জানতে চাইলে বিপ্লব বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যতটুকু প্রমাণ পেয়েছি, তাতে মনে হয়েছে মোটরসাইকেলটির বৈধ বা সঠিক কাগজপত্র রয়েছে।’

শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কলেজে যাওয়ার পথে হেনস্তার শিকার হন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. লতা সমাদ্দার। তিনি অভিযোগ করেন, ‘হেঁটে কলেজের দিকে যাওয়ার সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন- টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তির গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল।

এদিকে সোমবার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, কনস্টেবল নাজমুল তারেক অভিযোগকারীর (লতা সমাদ্দার) সঙ্গে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।