ঢাকা | জুলাই ২৫, ২০২৪ - ৩:১২ পূর্বাহ্ন

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ

  • আপডেট: Saturday, April 2, 2022 - 3:12 pm

অনলাইন ডেস্ক: সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় তুচ্ছ ঘটনায় ১১ বছরের এক শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মো. আজাদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (০২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ।

এর আগে, বুধবার (২৯ মার্চ) রাতে লাঠির আঘাতে শরীরে জখম হলেও তা সহ্য করে বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় থেকেছে শিশুটি। তবে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন চলে আসায় শুক্রবার (৩১ মার্চ) মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফিরলে তাকে মারধরের বিষয়টি জানতে পারে পরিবার।

ভুক্তভোগী ১১ বছর বয়সী শিশু মো. সাকিব আশুলিয়ার কুরগাঁও চারিগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. ইব্রাহিম চারিগ্রাম এলাকায় নুরুল হকের বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। সাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার তমিজ উদ্দিন থানার মহাদেবপুর গ্রামে।

অভিযুক্ত পলাতক চারিগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ মো. আজাদ বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ থানার পূর্বসটি গ্রামের মোতাহার হোসেন হাওলাদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশু সাকিবের বাবা মো. ইব্রাহিম জানান, সপ্তাহে ৬ দিন সাকিব মাদ্রাসায় থাকে। গত বুধবার মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চানাচুর খাওয়া নিয়ে সাকিবরে হাত-পা বেঁধে অনেক মারধর করেছেন শিক্ষক আজাদ। কিন্তু মাদ্রাসা খোলা থাকায় বাসায় যেতে পারিনি সাকিব। তারাও কিছু জানতে পারেনি। পরে শুক্রবার সকালে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাদ্রাসা থেকে সাকিব বাসায় গেলে তার মা গোসল করাতে গেলে সাকিবের শরীরে মারধরের দাগ দেখতে পায়। পরে সাকিবকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে বিচারের জন্য মেম্বারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের মাদ্রাসায় পাঠিয়েছেন। কইছে দ্যাখেন গিয়া, হ্যারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) কী বিচার করে। কিন্তু মাদ্রাসার লোকজন ওই শিক্ষককে লুকায় রাখছেন। সারাদিন আরও লোকের কাছে গেছি। কিন্তু কোনো বিচার পায়নি। আজ সকালে থানায় গিয়ে একটা অভিযোগ দিয়েছি।

বিষয়টি জানতে চারিগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানার অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. আজাদকে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, আজ ২২ বছর যাবৎ আমাদের এই মাদ্রাসাটির কার্যক্রম চলে। কখনও এমন কোনো ঘটনা আগে ঘটেনি। আর এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু মাদ্রাসা নয়, একটি এতিমখানাও। এই মাদ্রাসাটির মালিক কোন ব্যক্তি নয়। প্রতিষ্ঠানটি সবার সহযোগিতায় চলে। আমি ঘটনাটি শুক্রবার শুনেছি। সেই শিক্ষকের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনালী/জেআর