ঢাকা | জুলাই ১৯, ২০২৪ - ১০:৫৮ অপরাহ্ন

বাগমারায় কৃষিজমিতে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব

  • আপডেট: Wednesday, March 30, 2022 - 9:55 pm

 

বাগমারা প্রতিনিধি: প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বাগমারায় কৃষিজমিতে এখন পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। কৃষিজমির শ্রেণী পরিবর্তন করে পুকুর খননের উপর মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের মদদ থাকায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও বন্ধ হয়নি পুকুর খনন। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মদদে পুকুর খননকারী একটি চক্র কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের আবাদি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর পুকুর খননের নামে ফসলি জমির টপসয়েল অবাধে কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এভাবে অবাধে পুকুর খনন করা হলে এ উপজেলায় আবাদি জমির পরিমান কমে গিয়ে খাদ্যসঙ্কট দেখা দেয়াসহ পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে গত বছর বাগমারায় ছয়শটি পুকুর খনন হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার বিঘা আবাদিজমি কমে গেছে।

বুধবার সরজমিনে বাসুপাড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা মোড়ে, আউচপাড়া ইউনিয়নের মুগাইপাড়া বিলে, গনিপুর ইউনিয়নের মাদারীগঞ্জ বাজারের পাশে, ঝিকরা ইউনিয়নের ঝিকরা আশ্রয়ন কেন্দ্রের পাশে এবং মাড়িয়া, হামিরুৎসা ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ২৮ টি স্পটে পুকুর খননের নামে প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে কৃজিজমির টপসয়েল কেটে ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রভাবশালী কাজিম উদ্দিন বিনোদপুর বিলে কৃষক আবুল কাশেমের কৃষিজমিতে জোরপূর্ব পুকুর খনন করে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ওই কৃষক তাঁর আবাদিজমি রক্ষা করতে পারেননি। এর আগে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েও থানা সংলগ্ন সোনাবিলে কৃষিজমিতে প্রভাবশালী কর্তৃক অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধ না হওয়ায় প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন গনিপুর ইউনিয়নের কৃষকরা। পুকুর খনন চক্রের নেতা কাজিম উদ্দিন এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬টি, কলেজ শিক্ষক আস্তানুর রহমান ৭টি এবং আমজাদ হোসেন ১৩টি পুকুর খননের কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে পুকুর খনন চক্রের নেতৃত্বদানকারী একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে অনুমোতি না পাওয়ায় থানা ও ফাঁড়ির পুলিশকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন করতে হচ্ছে। কারণ থানা ও ফাঁড়িকে ম্যানেজ না করলে পুলিশ এসে ভেকুর চাবি কেড়ে নিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পুকুরের আয়তন অনুয়ায়ী পুলিশকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, পুকুর খননের অনুমতি দেয়া বা না দেয়ার দায়িত্ব থানার নয়। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক সুফিয়ান বলেছেন, বাগমারায় কৃষিজমিতে পুকুর খননের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি।