ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪ - ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শান্তির খোঁজে ইস্তাম্বুলে বসছে রুশ-ইউক্রেন

  • আপডেট: Tuesday, March 29, 2022 - 12:19 pm

অনলাইন ডেস্ক: তুরস্কে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) ফের শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। জানা গেছে, দু’পক্ষই এখন যুদ্ধ শেষ করতে চায়।

সম্প্রতি রুশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এখন শুধু পূর্ব ইউক্রেনের দিকে নজর দিচ্ছে।

মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়) বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে এরই মধ্যে তুরস্কে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেস্কি রেজনিকোভের নেতৃত্বে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান মিখাইল পোদোলিয়াক।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, মস্কো এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে সমগ্র ইউক্রেন তাদের পক্ষে দখল করা সম্ভব নয়। তাই এখন তারা রাজধানী কিয়েভ দখলের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে।

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন বুঝতে পেরেছেন ‘পুরো ইউক্রেনকে গিলতে পারবেন না, তাই তিনি পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল এবং দেশটির বাকি অংশের মাঝখানে একটা বিভক্তি রেখা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। ’

তার মতে, রুশ অগ্রাভিযান স্থবির হয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অগ্রাধিকার হচ্ছে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাংশ। তিনি যদি এই অঞ্চলটাকে সংযুক্ত করতে পারেন, তাহলে একে ইউক্রেনের বাকি অংশ থেকে আলাদা করে মস্কো-নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চল সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবেন, যা অনেকটা কোরিয়া যুদ্ধের পর যেমন হয়েছিল।

তবে জেনারেল বুদানভ এও বলেন, এরকম কোনো রাষ্ট্র স্থাপনের চেষ্টা টেকসই হবে না। কারণ স্থানীয় জনগণ একে প্রতিহত করবে। এছাড়া তার দেশ শিগগিরই রুশ-অধিকৃত এলাকায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করবে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার আসল সমস্যা হচ্ছে পূর্বাঞ্চল ও ক্রিমিয়ার মধ্যে একটি স্থল করিডোর প্রতিষ্ঠা ও চালু রাখা। তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মারিউপোল, যাকে কোনভাবেই দখলে নিতে পারছে না রাশিয়া।

এদিকে মস্কোর ‘সমঝোতা সূত্র’ বুঝেশুনে সাবধানে এগোতে চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার দেওয়া শর্তের মধ্যে অন্যতম হল ইউক্রেনের ‘নিরপেক্ষ অবস্থান’। অর্থাৎ ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ঢোকার চেষ্টা করবে না তারা। সেই সঙ্গে পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।

এ বিষয়ে জ়েলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা এই শর্ত মেনে নিতে রাজি। ’ সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এসব কারণেই। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বজায় থাকছে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। ওরা অবশ্য বলছে, ওদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সেটা বুঝতে পারছি। আলোচনা চলছে। বিষয়টা গভীর। তবে এ সব আলোচনা যাতে এক টুকরো কাগজেই থেমে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে আমি বেশি আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, ক্রিমিয়া ও দোনবাস নিয়েও যেসব সমস্যা রয়েছে, তা এই শান্তি আলোচনাতে সমাধানে আগ্রহী তিনি। তবে রুশ মধ্যস্থতাকারীরা ইউক্রেন থেকে ‘নাৎসিবাদ’ মুছতে চান তারা। এমন কথা বললে তাঁর দেশ আলোচনাতেই যাবে না। ওই শব্দটা শুনতে রাজি নয় ইউক্রেন।

রুশ হামলা অব্যাহত: এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে রুশ বাহিনী। এর মধ্যে বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তু আছে যেগুলো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকা।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ বিমানকে যেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য রাশিয়া তাদের নিজ আকাশসীমার ভেতর থেকে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ পূর্বের মারিউপোল শহরের বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর রাশিয়া আরও আক্রমণ চালিয়েছে।

এছাড়া রাজধানী কিয়েভের ওপরও আক্রমণ হচ্ছে। শহরটির ভিতরে এবং উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তার দেশকে যুদ্ধবিমান ট্যাংক এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরবরাহ করে। তিনি বলেন, মেশিনগান দিয়ে রুশ বিমান ভূপাতিত করা যায় না।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে যুদ্ধে অংশ নেন ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক লোকজন। এই যুদ্ধে পশ্চিমারা সরাসরি অংশ না নিলেও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মস্কোকে দুর্বল করার পথ বেছে নিয়েছে তারা। যুদ্ধ ঠেকাতে অনেক দেশ উদ্যোগ নিলেও এখনও রুশ আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। শান্তি আলোচনা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

রুশ হামলায় ইউক্রেনের অনেক শহর এখন ধ্বংসস্তূপ। এক কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। তাদের মধ্যে দেশ ছেড়েছেন ৩৮ লাখের বেশি। উভয়পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সোনালী/জেআর