ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ১:৩৪ অপরাহ্ন

বিমসটেক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট: Wednesday, March 23, 2022 - 1:39 pm

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের ৫ম শীর্ষ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩০ মার্চ এই সম্মেলন শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৩ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে বুধবার (২৩ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ড. মোমেন জানান, বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপক্ষে। শীর্ষ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির স্বাগত বক্তব্য শেষে বিমসটেকভুক্ত সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে বক্তব্য প্রদান করবেন। এ শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বিমসটেক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেবেন। রাষ্ট্রপ্রধানরা বিমসটেক অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ এ অঞ্চলকে আর্থ-সামাজিকভাবে আরও উন্নত, টেকসই ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দান করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিমসটেকের আওতায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল কার্যকরকরণ, যোগাযোগ মহাপরিকল্পনা অনুমোদন, বিদ্যুৎ গ্রিড সংযুক্তকরণ, জ্বালানি সহযোগিতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি, সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন ও এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রস্তাবনা আছে।

৫ম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বিমসটেক অঞ্চলে দারিদ্র, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত, কভিড ১৯ পরবর্তি করণীয় সম্পর্কে যৌথ কৌশল নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক সন্ত্রাস ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনসহ অন্যান্য সমস্যাকে যৌথ সমস্যাবলী নিয়ে উপযুক্ত কৌশল অবলম্বনপূর্বক আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর মোকাবিলা করার আহ্বান জানাবেন।

এ সম্মেলনে তিনি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সামষ্টিক উন্নয়নের জন্য বিমসটেক প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আইনি কাঠামো এবং অন্যান্য আইনি দলিল দ্রুত সম্পন্ন ও কার্যকর করারও আহ্বান জানাবেন।

আসন্ন এ শীর্ষ সম্মেলনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল গৃহীত ও স্বাক্ষর হওয়ার প্রস্তাবনা রয়েছে। এগুলো হল- বিমসটেক চার্টার, বিমসটেক কনভেনশন অন মিউচু্যয়াল লিভাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস, টেকনলজি ট্রান্সফার ও ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমিক ইন্সটিটিউসনের মধ্যে সমঝোতা সই।

ড. মোমেন জানান, আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন এবং এর অব্যবহিত পূর্বের সংশ্লিষ্ট সভাসমূহ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ২৫ বছর অতিক্রম করা বিমসটেক ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী। সফল কূটনৈতিক সাফল্যের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় উদ্বোধন করেন।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগলিক স্বাতন্ত্র্য, বিপুল প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ, ঐতিহাসিক সংযোগ এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিমসটেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও উন্নত করে গড়ে তুলতে আসন্ন ৫ম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ এবং এর অব্যবহিত পূর্বের সংশ্লিষ্ট সভাসমূহে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সোনালী/জেআর