ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১:৫১ পূর্বাহ্ন

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: পাওয়া যাচ্ছে না সূতী-আরোহী দুই বোনকে

  • আপডেট: Monday, March 21, 2022 - 11:00 am

অনলাইন ডেস্ক:  নারায়ণগঞ্জের নানা বাড়িতে বেড়ানো শেষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার নিজ বাড়িতে ফেরা হয়ে ওঠেনি দুই বোনের। তার আগেই নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে তারা।

নিখোঁজ ওই দুই বোনের নাম সূতী (১৮) ও আরোহী (৩)। তারা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইসমানিরচর গ্রামের বাসিন্দা। রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জে নানা বাড়িতে বেড়িয়ে লঞ্চে করে বাড়ি ফিরছিল গজারিয়ার ইসমানিরচর গ্রামের বাসিন্দা রাম রাজবংশীর দুই মেয়ে সূতী ও আরোহী। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এমভি আশরাফ উদ্দিন নামের মুন্সীগঞ্জগামী লঞ্চের যাত্রী ছিল তারা। কিন্তু লঞ্চ ডুবির ঘটনার পর থকে তারা নিখোঁজ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুই বোনকে খুঁজে না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় নদীর তীরেই ঘুরে ফিরছে তাদের স্বজনরা। জীবিত না পাওয়া গেলেও অন্তত দুই বোনের মরদেহ নিয়ে হলেও বাড়ি নিয়ে যেতে চায় তারা।

মুন্সিগঞ্জের হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইলিয়াছ হোসেন বলেন, দুই বোন নারায়ণগঞ্জে ওদের নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। রোববার শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীরা ছিল ওরা দুই বোন। এখনও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাসিব সরকার জানান, এখন পর্যন্ত ৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জের ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনো মুন্সীগঞ্জের কতজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন, সেই তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এর আগে রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এমভি আশরাফ উদ্দিন নামে মুন্সীগঞ্জগামী একটি লঞ্চ ডুবে যায়। চর সৈয়দপুরের আল আমিননগর এলাকায় এ দুর্ঘটনার ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃত ছয়জনের মধ্যে দুজন নারী, দুজন পুরুষ ও দুই শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মুন্সীগঞ্জ যাচ্ছিল এমভি আশরাফ উদ্দিন। কিন্তু পথে এমভি রূপসী-৯ নামে একটি কার্গোবাহী জাহাজ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চটি মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায়।

এসময় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী সাঁতারে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। তবে লঞ্চে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।