ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ২:৪৯ পূর্বাহ্ন

কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৫১

  • আপডেট: Thursday, March 17, 2022 - 7:38 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে যখন দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয়, তখনও কোটি টাকা আমানত আছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৫১টি। ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে কোটি টাকা আমানতকারীর সংখ্যা এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে কোটি টাকা আমানতের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে আট হাজার ৮৬টি। সেই হিসাবে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টি, যা ২০২০ সালের একই সময়ে ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি।

২০২০ সালের মার্চ মাসে মহামারি করোনা যখন আঘাত হানে তখন ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। কিন্তু ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেই ওই সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ২৩৯। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়ায় এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টি। সেই হিসাবে কোভিড-১৯ এর ২১ মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৫১টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বাড়ছে।’

সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট বাড়ার আরেকটি বড় কারণ দেশে বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। লোকজনের কাছে যে বাড়তি টাকা আছে সেটার বিনিয়োগ করতে না পেরে অ্যাকাউন্টে রেখে দিচ্ছে। পুঁজিবাজারের অস্থিরতার কারণে সেখানেও বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না কোটি টাকার অ্যাকাউন্টধারীরা। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন শর্তের কারণে নিরাপদ হিসেবে ব্যাংকে আমানত রাখেন অনেকে। এসব কারণেই বড় আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৪টি, যেখানে জমা ছিল ১৫ লাখ ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোটি টাকার বেশি আমানতের অ্যাকাউন্টে জমা ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবগুলোতে জমা ছিল পাঁচ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। ওই সময় মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

গত বছরের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ১-৫ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৮৩টি, যাদের হিসাবে জমার পরিমাণ এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। ৫-২০ কোটির মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার নয়টি হিসাব। তাদের হিসাবে জমার পরিমাণ এক লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

এছাড়া ২০-৫০ কোটির ওপরে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮৪টি। এই হিসাবগুলোতে জমার পরিমাণ তিন লাখ ২৮ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যাংকে কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতটি করে হিসাব খুলতে পারবেন তার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা নেই। সেকারণে একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। এগুলোর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার এক বা একাধিক কোটি টাকার অ্যাকাউন্টও আছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচ জন, ১৯৭৫ সালে ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে একলাফে তা দুই হাজার ৫৯৪টিতে পৌঁছায়। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ২০০১ সালে পাঁচ হাজার ১৬২, ২০০৬ সালে আট হাজার ৮৮৭ ও ২০০৮ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি।