ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৪ - ১১:৪৯ অপরাহ্ন

৯০ শতাংশ মানুষকে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনা লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট: Wednesday, March 16, 2022 - 8:16 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের আওতায় আনা তার সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে বুধবার চট্টগ্রাম ওয়াসা বাস্তবায়িত ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২-এর আওতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রকল্পটি।

প্রধানমন্ত্রী নদী বাঁচাতে সব ধরনের দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেও নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্ণফুলী, সাঙ্গু, হালদাসহ যে কটা নদী আছে, এই নদীগুলো যেন কোনোভাবে দূষণ না হয়, এই দূষণের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করতে হবে। কর্ণফুলীর দিকে একটু বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। সেখানে যেহেতু ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন হচ্ছে।’

‘কর্ণফুলী নদী যেন কোনোভাবে দূষিত না হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এটাকে কার্যকর করা এবং সব সময় অব্যাহতভাবে রাখতে হবে। এর সাথে অন্যান্য নদীগুলোও। কারণ আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ছোট ছোট যে শাখা নদী গুলো তৈরি হয়েছে সেগুলোর দিকেও এখন থেকে সবাইকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে বিষয়ে আপনারা দৃষ্টি দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। আমরা যে পানি শোধনাগার করছি বিভিন্ন নদী থেকে, সেটা ভূ-উপরিস্থ পানির থেকে শোধন করা হচ্ছে। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর আমাদের নির্ভরতা কমে যাচ্ছে এবং সেটা আমাদের কমাতে হবে। যেহেতু আমাদের দেশ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা, ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যাতে না কমে যায় সে জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া দরকার। ভৌগলিক বিষয় যদি আমরা দেখি, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানি কিন্তু ভূমিকম্প থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।’

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃষ্টির পানিটা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেবেন। প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু পানি শোধন করে যে আমরা দেব তা না, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করাটা এবং এবং সেটা ব্যবহার করা একান্তভাবে দরকার।’

বর্ষাকালে নদীর পানিও সংরক্ষণ করতে হবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তৈরির সময় হাউজিং সোসাইটি বা ইন্ডাস্ট্রি হোক বা কোন শিল্প এলাকা হোক, যখনই নির্মাণ করবেন প্রতিটি জায়গায় যেন জলাধার থাকে। আর আমাদের বৃষ্টির পানি আর বর্ষাকালের পানিটা যেন আমরা সংরক্ষণ করতে পারি সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিশেষ প্রকল্প নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প প্রথম পর্যায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরও পাঁচটি পয়োঃশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। যাতে করে আর মানুষের সমস্যা না থাকে।’

বাণিজ্যিক নগরী হচ্ছে চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। চট্টগ্রামের উন্নয়ন করতে পারলে গোটা বাংলাদেশ উন্নত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমাদের রপ্তানি সবচেয়ে চট্টগ্রামের বিরাট অবদান রয়েছে। তাই সব সময় চট্টগ্রামকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর একটি পরিকল্পনা আছে আমার। মীরসরাই যেমন শিল্পনগরী হয়েছে, একেবারে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা। তাহলে চট্টগ্রাম সুরক্ষিত থাকবে, আবার পর্যটনের দিক থেকে সুবিধা হবে। এই চিন্তাটাও আমাদের মাথায় আছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালণায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য দেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।