ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৪ - ১২:২৯ অপরাহ্ন

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে রড-সিমেন্টের দাম

  • আপডেট: Wednesday, March 16, 2022 - 10:50 pm

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে নির্মাণকাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রডের দাম। খুচরা বাজরে প্রথমবার প্রতি টন রডের দাম ঠেকেছে ৮৯ থেকে ৯৩ হাজার টাকায়। এতে বড় ধাক্কা লেগেছে নির্মাণকাজে। নেমে এসেছে স্থবিরতা। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পসহ ব্যক্তিখাতের নির্মাণকাজ।

সেই ধাক্কা সামাল দিতে না দিতেই এবার অস্থির হয়ে উঠেছে সিমেন্টের বাজার। চাহিদা কম থাকলেও হু-হু করে বাড়ছে পণ্যটির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা।

ডিলার ও মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সব কারখানাগুলো চালু ও উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। মাল থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে না। রডের দাম বাড়ার কারণে সিমেন্ট উৎপাদনকারীরাও প্রতিযোগিতা করে দাম বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবহারকারীরা বলছেন, একটি অসাধু চক্র সিন্ডিকেট করে বিপুল পরিমাণ রড ও সিমেন্ট মজুত করেছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা কম থাকলেও সিন্ডিকেট করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়াচ্ছে চক্রটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাজারের চাহিদার চেয়ে বেশি। সিমেন্ট কারখানাগুলোর কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানি নির্ভর। এর মধ্যে ভিয়েতনাম, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড থেকে ক্লিংকার (কাঁচামাল) আমদানি হয়। বেশিরভাগ আমদানি হয় ভিয়েতনাম থেকে।

নির্মাণ শ্রমিক ইমদাদুল হক বলেন, রড-সিমেন্টের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নির্মাণ কাজে। এ কারণে চলতি সপ্তাহে কাজ অনেক কমে গেছে। রড-সিমেন্টে নির্ভর কাজ হচ্ছে না বললেই চলে। সরকারি ঠিকাদাররাও বন্ধ রেখেছেন প্রকল্পের কাজ।

এলজিইডির ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান নান্টু বলেন, রডের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে এলজিইডি, গণপূর্ত, শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অচিরেই দাম না কমলে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া ঠিকাদারদের কোনো উপায় থাকবে না। এরই মধ্যে অনেক ঠিকাদার চরম বেকায়দায় পড়েছেন।

বসতবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন উপজেলার শামুকখোল গ্রামের বিমান কুমার সরকার। তিনি বলেন, কাজে হাত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রড ও সিমেন্টের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এতে নির্মাণ কাজ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ে নির্মাণকাজে হাত দিয়েছি। এখন বাজারের যা অবস্থা তাতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

বুধবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রকারভেদে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি টন রড বিক্রি হয়েছে ৮৯ হাজার থেকে ৯৩ হাজার টাকায়। বিএসআরএম ৯৩ হাজার টাকা, এসসিআরএম ৮৯ হাজার টাকা, একেএস ৯২ হাজার টাকা, মেট্রোসিম ৯১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা দেশের অতীত ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এদিন হোলসিম, স্ক্যান, সেভেন রিংস গোল্ড, আকিজসহ বিভিন্ন কোম্পানির ঢালাই সিমেন্ট প্রতি বস্তা বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা। সাধারণ গ্রেডের সিমেন্ট বিক্রি হয়েছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টে দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের রড-সিমেন্টের পাইকারী বিক্রেতা আব্দুল লতিফ প্রামানিক বলেন, দেশের সব সিমেন্ট কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এমনিতে রডের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চারদিকে কাজে (নির্মাণকাজ) ধস নেমেছে। তার ওপর সিমেন্টের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। যে কারণে সিমেন্টের অগ্রিম বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদামতো সরবরাহ দিচ্ছে না। বাজারে অলিখিত সংকট তৈরি হয়েছে। আবার একেক ডিলার একেক দামে রড-সিমেন্ট বিক্রি করছে। সবমিলিয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বেচাকেনা নেমে এসেছে শুন্যের কোটায়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী শাইদুল ইসলাম মিয়া বলেন, এ দপ্তরের আওতায় বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। সিডিউল মোতাবেক প্রত্যেক ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মানসম্মত কাজ বুঝে দিতে হবে। না হলে ওইসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রড-সিমেন্টের দাম বাড়লেও এসব কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না।