ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১১:৩৫ অপরাহ্ন

টাকার বিনিময়ে ‘ধর্ষণে’র ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা, তরুণীর বিষপান

  • আপডেট: Saturday, March 12, 2022 - 5:22 pm

অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকা দিয়ে সমঝোতার চেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী তরুণী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তরুণী চলতি বছর এসএসসি পাশ করেছেন। অভিযুক্ত ওমর ফারুক (২২) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ফতেনগর গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও নির্যাতিতার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাবা-মা দু’জনেই মারা গেছেন। নানা-মামারা তার দেখাশোনা করেন । অভিযুক্ত ওমর ফারুক নিজেকে কলেজ ছাত্র পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ওমর ফারুক কৃষি কাজ করেন। দুই বছর ধরে ওমর ও ভুক্তভোগী তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণও করেন ওমর।

গত শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তরুণীর বাড়িতে দেখা করতে যান ফারুক। সকালে তরুণীর এক খালা ধরে ফেলেন ফারুককে। পরে তরুণীর পরিবারের লোকজন তাকে আটক করেন। ওই সময় ফারুক ও তরুণী দু’জনেই বিয়েতে সম্মত হলে অভিযুক্তর বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। এর মধ্যে খবর আসে ফারুক আগেও বিয়ে করেছেন; ওই ঘরে তার দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। ফারুকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্ত্রীও হাজির হন তরুণীর বাড়িতে।

প্রথমে ফারুক তরুণীকে বিয়েতে সম্মত হলেও নিজের স্বজনরা আসার পর মত পাল্টাতে শুরু করেন। দিনভর দফায় দফায় দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় আঠারবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর পাঠানো হয় এক যুবককে আটকে মারধর করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মলয় চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় কোনো পক্ষ অভিযোগ না করায় বিষয়টি ইউপি সদস্যের জিম্মায় দিয়ে চলে যায় পুলিশ। পরে রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল হাশেমের বাড়িতে বসে বিষয়টি মিটমাটের জন্য সালিশ বসে। সালিশে নির্যাতিতা তরুণীর অন্য কোথাও বিয়ের খরচের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। বিয়ে না হওয়া ও টাকা দিয়ে ‘ধর্ষণে’র মীমাংসার কথা শুনে বিষপান করেন তরুণী।

তরুণীর নানা জানান, মেম্বারের বাড়িতে সালিশে বিয়ের খরচের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তারা রাজি ছিলেন না। এর মধ্যেই তার নাতনি বিষপান করে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ইউপি সদস্য মো. আবুল হাশেমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন ওরফে নূর বানু বলেন, তাদের বাড়িতে সালিশ বসে। বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা হচ্ছিল। টাকাও নির্ধারণ হচ্ছিল। ওই সময় মেয়ে বিষ খাওয়ায় কিছুই হয়নি।

আঠারবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মলয় চক্রবর্তী বলেন, মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ফারুক, বিষয়টি সত্য। যুবককে আটকে মারধরের খবর পেয়ে তারা উদ্ধার করতে যান। ওই সময় তরুণী বিষপান করলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল কাদের মিয়া বলেন, তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তরুণীর মামা বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোনালী/জেআর