ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪ - ৫:২২ পূর্বাহ্ন

মিথ্যা গল্পের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ ভুয়া মুফতি-হাফেজের

  • আপডেট: Tuesday, March 8, 2022 - 2:01 pm

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা শহরের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম পরিচয় দিয়ে নামের সাথে মুফতী ও হাফেজ টাইটেল ব্যবহার করে প্রতারণা করতো একটি চক্র। এরপর কখনো মসজিদের মোয়াজ্জেম বা তার স্ত্রী ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গল্প সাজিয়ে সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে টাকা নিতো তারা। এভাবেই চক্রের সদস্যরা প্রতি মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। প্রতারক ঐ চক্রের মূল হোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আব্দুল মান্নান শেখ (৪২), মো.কামরুল ওরফে কামরুজ্জামান (৩৪), আসাদুল্লাহ আল গালিব (২৬), মো. আমিনুর রহমান (৩৯) ও মো. শওকত আলী খান সাগর( ৪৩)।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৬ টি বিভিন্ন অপারেটরের সীম সহ ৮ টি মোবাইল, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, ঢাকা গলফ ক্লাব, চিটাগাং বোট ক্লাব, বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাব, মহাখালী ডিওএইচএস কাউন্সিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মেম্বারদের ডাইরেক্টরী বইসহ সর্বমোট ৫০ টি ডাইরেক্টরী জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদেরকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম পরিচয় দিয়ে নামের সাথে মুফতী ও হাফেজ টাইটেল ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণীর সরকারী ও বেসরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গল্প সাজিয়ে প্রতারণা করে আসছিল।

অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা কখনো মসজিদের মোয়াজ্জেম বা তার স্ত্রী ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে এমন সব ভুয়া তথ্য দিয়ে হাসপাতালের বড় অংকের চিকিৎসা খরচ প্রদান করতে না পারায় হাসপাতাল থেকে লাশ বের করে দাফন-কাফন করতে পারছেন না এসব বলে সাহায্য সহযোগিতার আকুতি করতো।

সিআইডি জানায়, এরা টার্গেটকৃত ব্যক্তির নাম ঠিকানা ও পদবী জেনে নিকটস্থ বড় মসজিদের ইমাম পরিচয় দিয়ে ফোন দিতো। এভাবে চক্রটি জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছিলো।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, বিভিন্ন পেশার মানুষ এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হই।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ক্লাবের ও এসোসিয়েশন মেম্বারদের নাম ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য সহ মোবাইল নাম্বার সম্বলিত ডাইরেক্টরী বই উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বারদের ডাইরেক্টরী বইসহ সর্বমোট ৩৫ টি ডাইরেক্টরী জব্দ করা হয়েছে।

ইমাম হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে আসামিরা এমন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। এবং জিজ্ঞাসাবাদে এ চক্রের মূল হোতা মো. শওকতের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইলের বিকাশ নম্বরের স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি মাসে প্রত্যেকে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা এভাবে হাতিয়ে নিতো।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

সোনালী/জেআর