ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ২:৫৬ পূর্বাহ্ন

পুঠিয়ায় মহাসড়ক জুড়ে নিষিদ্ধ যানবাহনের দৌরাত্ম

  • আপডেট: Tuesday, March 8, 2022 - 11:13 pm

এইচ এম শাহনেওয়াজ, পুঠিয়া থেকে: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুঠিয়া উপজেলার অবস্থান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক উদাসিনতায় এই সড়কে সার্বক্ষণিক দাপিয়ে চলছে বিভিন্ন নিষিদ্ধ যানবাহন। ওই নিষিদ্ধ গাড়ি চালকরা বলছেন, তাদের সমিতির মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের সাথে সমঝোতা রয়েছে। তাই পুলিশ আইনী কোনো প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন না। যার কারণে প্রতিনিয়ত মহাসড়কে বেড়েই চলেছে অবৈধ যানবাহন। এ কারণে মাঝে মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি গুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে জনদূর্ভোগ।

জানা গেছে, উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের আশেপাশে ১৪টি ভাটার ইট ও মাটি বহন করছে প্রায় পাঁচশতাধিক অবৈধ ট্রলি-ট্র্যক্টার। সেই সাথে প্রায় তিনশতাধিক লেগুনা, থ্রি-হুইলার, সিএনজিও চলাচল করছে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ গাড়ির বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। সেই সাথে সম্প্রতি বালুবাহী নম্বরপ্লেট বিহীন ড্যামট্রাকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। ওই ড্যামট্রাক, ট্রলি-ট্র্যক্টর গুলো অরক্ষিত ভাবে মাত্রারিক্ত মাটি ও বালু বহণ করছে। যা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সয়লাভ হয়ে থাকে। ধূলার কারণে রাস্তায় পথচারী ও স্থানীয়রা চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আসাদুল ইসলাম নামে একজন ভ্যান চালক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন মহাসড়কে শতশত অবৈধ ট্রলি-ট্র্যাক্টর হিম্যানহলারসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। অথচ হাইওয়ে পুলিশ তাদের কিছুই বলছেন না। আর আমরা গরীব মানুষ পেটের দায়ে অটো-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের খাবার যোগান দেই। আমরা রাস্তায় বের হলেই হাইওয়ে পুলিশ ভ্যানগুলো আটক করছেন।

রাজশাহী জেলা সড়ক ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পটল বলেন, গত কয়েক বছরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। অথচ ওই অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা বিগত সময় হরতাল, অবরোধ ও আন্দোলন করেও এর কোনো সুফল পাইনি। যার কারণে প্রতিনিয়ত অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনার সংখ্যাও।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক নিষিদ্ধ যানবাহন চালকরা বলছেন, হাইওয়ে পুলিশকে প্রতিটি ষ্ট্যান্ড থেকে মাসিক ভাবে চাঁদা দেয়া হয়। এতে আমাদের প্রতিমাসে গাড়ী প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হারে দিতে হয়। এছাড়া ইটভাটার ড্যামট্রাক, ট্রলি-ট্র্যাক্টর মালিকদের সাথে আলাদা কন্ট্যাক রয়েছে। এর মধ্যে যারা নিয়মিত টাকা দেয় না তাদের ওই গাড়ী আটক করে মামলা দিয়ে দেন।

স্থানীয় ট্রাক চালক নাজিম উদ্দীন বলেন, হাইওয়ে পুলিশের লোকজন আমাদের গাড়ি থেকে মাসিক একটি চাঁদা নেয়। আর বহিরাগত মালবাহি গাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে বেলপুকুরের কাছাকাছি ও শিবপুর এলাকায় কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য থামিয়ে দেয়। পরে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে গাড়ী গুলো থেকে দুই’শ থেকে তিনশত টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

এ বিষয়ে পবা হাইওয়ে (শিবপুরহাট থানা) ওসি মোফাকারুল ইসলাম অবৈধ গাড়ী গুলো থেকে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা প্রতিদিন অবৈধ গাড়ীর উপর মামলা দিচ্ছি। কখনো অবৈধ গাড়ি গুলো আটক করা হচ্ছে। তবে উপরের নির্দশনা না থাকায় এই মুহুর্তে ড্রাম ট্রাক গুলোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না।