ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪ - ৫:২৮ অপরাহ্ন

সিরিজ জয়ের ম্যাচ আজ

  • আপডেট: Saturday, March 5, 2022 - 11:49 am

অনলাইন ডেস্ক: অলআউট ক্রিকেট খেলা হয়নি প্রথম ম্যাচে। টি২০-র ব্যাটিং দেখাতে পারেননি ব্যাটারদের কেউই। ক্যামিও ইনিংস ছিল না একটিও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ম্যাচে আজ ব্যাটিংয়ের এই জিনিসগুলো অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচ জিততে চান মাহমুদউল্লাহরা। সফর- কারীদের হোয়াইট- ওয়াশ করে র‌্যাঙ্কিংয়ে পয়েন্ট বাড়াতে উন্মুখ টাইগাররা। আফগানিস্তানও চেষ্টা করবে সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে খেলতে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ দিয়ে মুশফিকুর রহিম খেলতে পারেন নিজের শততম টি২০।

প্রথম টি২০-তে ১৫৫ রান করেও বোলিং শক্তি কাজে লাগিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। দুই দলের ব্যবধান গড়ে দেয় স্বাগতিক স্পিন বিভাগ। বাংলাদেশের বোলিংয়ের শক্তি বরাবরই স্পিনে। মোহাম্মদ রফিকের উত্তরসূরি হয়ে আব্দুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসান, মেহেদী মিরাজ, নাসুম আহমেদরা দেশের কন্ডিশনে রাজ করছেন। দেশের মাটিতে খেলা হলে স্পিনারদের কদর থাকে বেশি। তারা জ্বলে উঠলে কম পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জিততে পারে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে যেমন ৬১ রানের বড় জয়ের কারিগর ছিলেন নাসুম-সাকিবরা। স্পোর্টিং উইকেটেও দারুণ বল করেন এ দুই বাঁহাতি। রঙ্গনা হেরাথকে স্পিন পরামর্শক কোচ হওয়ার পর স্পিন পারফরম্যান্সে ধার বেড়ে গেছে। টেকনিকের সঙ্গে তার দেওয়া কৌশলের সমন্বয় করে বোলাররা হয়ে উঠেছেন ক্ষুরধার।

টি২০ বিশ্বকাপে মরুর কন্ডিশনে শেখ মেহেদী, নাসুম ছিলেন ধারাবাহিক। নিউজিল্যান্ডে গিয়েও এখন ভালো বোলিং করেন তারা। এই ভালো করার পেছনে কৌশলের ভূমিকা দেখেন হেরাথ, ‘সব সময়ই মাইন্ডসেট গুরুত্বপূর্ণ। কন্ডিশন অনুকূলে না থাকলেও সেটা বুঝে সতর্ক হতে হবে। সেটা টার্নিং না হলেও বোলারকে তার রোল বুঝতে হবে। তারা তাদের রোল সম্পর্কে পরিস্কার থাকায় ভালো করছে।’ মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজটি খেলা হচ্ছে স্পোর্টিং উইকেটে। বৃহস্পতিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ বোলিং করেন নাসুম। ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। সাকিব ডট বল দেওয়ায় মুনশিয়ানা দেখান। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন শেখ মেহেদীও। স্পিন বিভাগের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিয়ে হেরাথ বলেন, ‘আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের বেশি সুযোগ দেওয়া হলে তারা আত্মবিশ্বাস পায়। বোলিং ইউনিটে তারা সুযোগ পাচ্ছে। ব্যাটাররা একই ধরনের সুযোগ পেলে তারাও সেরাটা দেবে।’

বাংলাদেশের বোলিং বরাবরই শক্তির জায়গায়। গত দুই বছরে সেটা বেড়েছে রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ায়। স্পিনের সঙ্গে পেস বোলিং ইউনিট গড়ে উঠেছে। যেটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়েছে বোলারদের মাঝে। মেহেদী মিরাজ ও এবাদত হোসেনদের হাত ধরে নিউজিল্যান্ডে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ধারাবাহিক ভালো খেলছে ওয়ানডে সংস্করণে। এই প্রথম আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে পারছে বড় দলের মতো করে। এর পেছনে খেলোয়াড়দের মানসিক পরিবর্তন দেখেন কোচ, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি যেখানেই খেলা হোক বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে- মাইন্ডসেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমাকে বুঝতে হবে দেশের জন্য খেলছ। যেখানে দায়িত্ব এবং রোল থাকে। সেটা বোঝা খুবই জরুরি। শ্রীলঙ্কান হিসেবে আমি দেশের হয়ে অনেক বছর খেলেছি। আমি বিশ্বাস করতাম, যখন এই সুযোগ আসবে তখন দেশকে অবশ্যই কিছু ফিরিয়ে দিতে হবে। সেদিক থেকে, ছেলেরা ভালো করছে এবং সুন্দর মানসিক ফ্রেমে আছে।’

স্পিন কোচ হলেও হেরাথ শুধু স্পিনারদের নিয়ে ভাবেন না। পুরো দলের সঙ্গে একাত্ম দেখা যায় তাকে। নেট অনুশীলনে ব্যাটাররাও উপকৃত হয় তার কাছ থেকে। বুঝতে পারে কোন বল খেললে আউট হবেন তারা। গতকাল হেরাথ তাই বলছিলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটাররাও ভালো করবেন আজ।

সোনালী/জেআর