ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১:০৮ পূর্বাহ্ন

চোখে দেখার সমস্যা

  • আপডেট: Saturday, March 5, 2022 - 1:25 pm

অনলাইন ডেস্ক: বস্তু থেকে সমান্তরাল আলোকরশ্মি চোখের কর্নিয়া বা কালো বলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বেঁকে যায় এবং চোখের লেন্সের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় দ্বিতীয়বার বেঁকে চোখের রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। আর এ জন্য আমরা ওই বস্তুটি দেখতে পাই। আলোকরশ্মির এই পথ যদি স্বাভাবিক থাকে, কোনো গঠনগত পরিবর্তন বা কোনো রোগ যদি না থাকে, সে ক্ষেত্রে চশমা দিয়ে সে দৃষ্টির উন্নয়ন সম্ভব। তখন সে অবস্থাকে রিফ্রাকটিভ এরর বা পাওয়ারজনিত দৃষ্টিস্বল্পতা বলা হয়। এটি সাধারণত চার ধরনের হয়। মায়োপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টি), হাইপারোপিয়া (দূরদৃষ্টি), প্রেসবায়োপিয়া।

মায়োপিয়া
এ ধরনের রোগী কাছে মোটামুটি ভালো দেখতে পারলেও দূরে ঝাপসা দেখে। তাই এদের ক্ষীণদৃষ্টি বলা হয়। অবতল লেন্স বা মাইনাস পাওয়ারের চশমা পরলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। যাদের চোখে ছয় ডায়াপটারের বেশি মাইনাস পাওয়ারের লেন্স লাগে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের পাওয়ারও বাড়তে থাকে, তখন তাকে প্যাথলজিক্যাল মায়োপিয়া বলা হয়। সে ক্ষেত্রে চোখের দেয়াল বা সেক্লরা পাতলা হয়ে যায় এবং রেটিনা ছিদ্র হয়ে পরে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

হাইপারোপিয়া

এ ধরনের রোগীরা দূরে এবং কাছের উভয় দিকেই ঝাপসা দেখে এবং অফিসিয়াল কাজ করার সময় রোগীর চোখের ওপর চাপ পড়ার কারণে মাথাব্যথার অনুভূতি হয়। স্বাভাবিক চোখের চেয়ে একটু ছোট থাকে, যদিও সেটা বোঝা যায় না। উত্তল বা প্লাস লেন্সের চশমা ব্যবহার করে এ সমস্যার সমাধান করা যায়।

অ্যাসটিগমেটিজম
এটি একধরনের দৃষ্টিস্বল্পতা, যাতে রোগীর কর্নিয়ার যে কোনো একদিকে (লম্বদিক, প্রস্থ অথবা কোনাকুনি) পাওয়ার পরিবর্তন হয় বলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। এর কারণে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, একটি জিনিসকে দুটি দেখা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। সিলিন্ডার লেন্স ব্যবহারে এ সমস্যার সমাধান হয়।

প্রেসবায়োপিয়া
এতে বয়সজনিত চোখের গঠনগত পরিবর্তনের কারণে চোখের লেন্সের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়। ফলে লেন্সের প্রয়োজনে (বিশেষ করে কাছের জিনিস দেখার জন্য) আকার পরিবর্তন করার ক্ষমতা কমে যায় এবং কাছের জিনিস ঝাপসা দেখায়। ৪০ বছরের পর এ সমস্যা দেখা যায় বলে একে চালসে রোগ বলা হয়। শুধু কাছের জিনিস দেখার জন্য (বিশেষ করে পড়াশোনার জন্য) উত্তল বা পল্গাস লেন্স ব্যবহার করলে এ সমস্যার সমাধান হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চশমার পাওয়ারও পরিবর্তন হয়।

চিকিৎসা

ডাক্তারের পরামর্শে রোগের ধরন অনুযায়ী পাওয়ার চেক করে চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।

চশমা যারা পরতে চায় না, তারা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারবিধি একটু জটিল বিধায় অনেকের পক্ষে ব্যবহার করা হয়ে ওঠে না।
বর্তমানে লেজার সার্জারির মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এক্সাইমার লেজার ব্যবহার করে চোখের পাওয়ার পরিবর্তন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। একে ল্যাসিক রিক্সাকটিভ সার্জারি বলা হয়। এর মাধ্যমে ১২ ডায়াপটার পর্যন্ত মায়োপিয়া, ৫ ডায়াপটার পর্যন্ত অ্যাসটিকমেটিসম এবং ৪ ডায়াপটার পর্যন্ত হাইপারোপিয়ার চিকিৎসা সম্ভব। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ল্যাসিক করার পর সাধারণত চশমা অথবা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।

সোনালী/জেআর