ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১:০০ পূর্বাহ্ন

ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের বিশ্বস্ত যারা

  • আপডেট: Thursday, March 3, 2022 - 7:53 am

অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কোনো দেশকে আক্রমণ হোক কিংবা কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব- সবটা দায় সরাসরি বর্তায় তার ওপরেই। কিন্তু সবশেষ সিদ্ধান্ত পুতিনের হলেও যেকোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনায় তারও আছে বিশ্বস্ত কিছু মানুষ।

ইউক্রেন যুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়ে পুরো দেশের অর্থনীতিকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়া পুতিনের সেই সহচরদের জেনে নেয়া যাক। খবর বিবিসির।

সের্গেই শোইগু

পুতিনের বিশ্বস্ত সহচরদের তালিকার অনেক ব্যক্তিরই শুরুটা হয়েছে রাশিয়ার সিকিউরিটি সার্ভিস বা নিরাপত্তা দপ্তর থেকে। তাদেরই একজন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু। একাধিকবার তাকে পুতিনের সঙ্গে সাইবেরিয়ায় মাছ ধরতে কিংবা শিকারে যেতে দেখা গেছে। এমনকি তাকে পুতিনের পরবর্তী যোগ্য শাসক হিসেবে বিবেচনা করছেন কেউ কেউ।

রাশিয়ার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং লেখক আন্দ্রেই সোলদাতোভ মনে করেন, শোইগু কেবল সামরিক বাহিনীর প্রধানই না, মতাদর্শ প্রচারের দায়িত্বেও আছেন তিনি। আর রাশিয়াতে মতাদর্শ মূলত ইতিহাসের ওপর নির্ভরশীল, যা রচনার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে।

ভালেরি গেরাসিমভ

এমনই আরেক সহচর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভালেরি গেরাসিমভ। ১৯৯৯ সালে চেচেন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার পর থেকেই পুতিনের সামরিক ক্যাম্পেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল কিংবা গত মাসে বেলারুশে সৈন্য সমাগম করে ইউক্রেন যুদ্ধের মূল পরিকল্পনাতেও তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

আন্দ্রেই সোলদাতোভের মতে, পুতিন যেহেতু প্রতিটি ব্যাটালিয়ন ও রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তার হয়ে এই কাজটি করেন জেনারেল গেরাসিমভ। তবে বিভিন্ন সময়ে নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে সেনাদের মধ্যে তার প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিকোলাই পাত্রুশেভ

পুতিনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত তিন সহচরের মধ্যে নিকোলাই পাত্রুশেভকে ‘বাজপাখি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রাশিয়ান রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক বেন নোবেল। তার মতে, পশ্চিম রাশিয়াকে কাবু করতে বছরের পর বছর চেষ্টা করে যাচ্ছে এমন ধারণা পোক্ত করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তারই ছিল। সেন্ট পিটাসবার্গ যখন লেনিনগ্রাদ নামে পরিচিত ছিল সেই ১৯৭০ থেকে পুতিনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

আলেক্সান্ডার বর্তনিকভ ও আলেক্সান্ডার বর্তনিকভ

অন্য দুই বিশ্বস্ত সহচর হলেন নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আলেক্সান্ডার বর্তনিকভ এবং ফরেন ইন্টিলিজেন্স হেড বা পররাষ্ট্র বুদ্ধিমত্তা প্রধান সার্জেই নারিশকিন। প্রেসিডেন্ট পুতিনের অভ্যন্তরীন চক্রটি ‘সিলোভিকি’ বা ‘রক্ষাকারী বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত হলেও এই তিনজন সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ।

সের্গেই লাভরভ

পুতিনের সহচরদের আরও একজন ৭১ বছর বয়সী সের্গেই লাভরভ। রাশিয়ার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক হিসেবে বিগত ১৮ বছর ধরে বিশ্বের কাছে দেশটিকে তুলে ধরছেন তিনি। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে তার বিশেষ কোনো ভূমিকা না থাকলেও, পুতিন তার ওপর বেশ নির্ভর করেন।

ভ্যালেন্টিনা মাটভিয়েঙ্কো

এদের মধ্যে নারী হিসেবে একজন বিরল সহচর ভ্যালেন্টিনা মাটভিয়েঙ্কো। ইনিও সেন্ট পিটাসবার্গ থেকে শুরু করে ক্রিমিয়া যুদ্ধ এবং বর্তমান সময়েও পুতিনের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাজ করছেন।

ভিক্টর জোলোকোভ

রোমান সাম্রাজ্যের আদলে ছয় বছর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিনের তৈরি করা ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী ‘রোসগভার্দিয়া’র পরিচালক ভিক্টর জোলোকোভ। তিনি পুতিনের সাবেক দেহরক্ষী ছিলেন। বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা প্রায় চার লাখে উন্নীত করা এই ব্যক্তির ওপর তার আছে অগাধ আস্থা।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনের ওপর অর্থনীতি উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকলেও যুদ্ধের বিষয়ে তার মত গৌন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবইয়ানিন, তেল-দানবখ্যাত ইগোর সেচিন এবং পুতিনের বাল্যবন্ধু ও ফোর্বস তালিকায় সবচেয়ে ধনী দুই রাশিয়ান ভাই বরিস এবং আর্কেদি রোতেনবার্গকেও পুতিনের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে ধরা হয়।