ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ৩:৫৪ অপরাহ্ন

বিয়ে করাই ছিল নেশা অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে ব্ল্যাকমেলিং

  • আপডেট: Wednesday, March 2, 2022 - 7:54 am

অনলাইন ডেস্ক: বিয়ে করাই ছিল তার নেশা। সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সঙ্গে গড়ে তুলতেন প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ভুয়া কাজি এনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতেন। স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখতেন তিনি। গোপনেই চলত তাদের দাম্পত্য জীবন। তবে কিছুদিন পরই তাজবিরুল ইসলাম সবুজ ওরফে শেখ শিমুল (৩২) নামের সেই ব্যক্তির আসল রূপ দেখে আঁতকে উঠতেন অসহায় নারীরা। জীবনের প্রয়োজনে সবুজের ডেরা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতেন তারা। তবে তখনই তারা মুখোমুখি হতেন গা শিউরে ওঠা মুহূর্তের।

তার সঙ্গে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিমুল হাতিয়ে নিতেন ওই সব নারীর সর্বস্ব। চাহিদামতো অর্থ না পেয়ে কয়েকজন নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তিনি ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে আপলোডও করেছেন। এমনই এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সবুজ ওরফে শেখ শিমুলকে সোমবার রাতে গাজীপুরের গাছা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ এর একটি দল। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, বাগেরহাটের বাসিন্দা তাজবিরুল ইসলাম সবুজ (৩২)। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে নাম পরিবর্তন করে হয়ে যান শেখ শিমুল। পড়াশোনায় অষ্টম শ্রেণির গন্ডি পার হতে না পারলেও নিজেকে একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন।

বহুরূপী এ প্রতারক ১০ বছর ধরে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করছিলেন। সেই সুবাদে গাজীপুরেই বসবাস করেন। এর মধ্যে এলাকায় সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। আর এই পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক নারীকে বিয়ে করেন সবুজ। র‌্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, এক নারীর সঙ্গে সম্প্রতি তার বিচ্ছেদ হয়। ডিভোর্স দেওয়ার ক্ষোভে তিনি ওই নারীর সঙ্গে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপ বা গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করতেন তিনি।

র‌্যাব বলছে, গ্রেফতারের সময় শিমুলের কাছ থেকে ২টি ভুয়া সাংবাদিকের আইডি কার্ড, ২টি ভুয়া টিন সার্টিফিকেট, ১১টি ভুয়া প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড, তিন ধরনের ভিজিটিং কার্ড, ১টি স্পাই ক্যামেরা, ৭টি এটিএম কার্ড, ৬টি চেকবই, ১টি পে-অর্ডার, ১টি বিয়ের হলফনামা, ১টি জীবনবৃত্তান্ত ফরম, ১টি সেনাবাহিনীর ব্যবহƒত বেল্ট, ৪টি পেনড্রাইভ, ২টি মেমোরি কার্ড, ৬টি মোবাইল ফোন ও ৪১টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল নামের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সংবাদকর্মী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে আইনি সমস্যা সমাধান করে দেবে বলেও মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন তিনি।

পাশাপাশি আইনি জটিলতা আছে কিংবা আদালতে বিচারাধীন এমন মামলার জমি উদ্ধারের নাম করে বিবদমান পক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। তার প্রতারণার কাজে ফজল, তোফাজ্জল, মাসুম, আলতাফসহ আরও ২ থেকে ৩ জন তাকে সহযোগিতা করতেন।

লে. কর্নেল মোমেন বলেন, ২০০৫ সালে তার নিজ এলাকায় প্রথম বিয়ে করলে সেই স্ত্রী এক বছর সংসার করে সবুজকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। ২০১২ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করলে দ্বিতীয় স্ত্রীও এক বছর সংসার করে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। এরপর বাগেরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি এবং একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন। ২০১৪ সালে একজন গার্মেন্ট কর্মীকে বিয়ে করেন। ২০১৮ সালে তৃতীয় স্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে একজন গার্মেন্ট কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন সবুজ। পরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে রাখেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সবুজ এসব তথ্য দিয়েছেন। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের হয়ে আসবে।

সোনালী/জেআর