ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৪ - ১১:৪৬ অপরাহ্ন

কেমন হলো নতুন ইসি?

  • আপডেট: Saturday, February 26, 2022 - 2:07 pm

অনলাইন ডেস্ক: সদ্য বিদায় নেওয়া কেএম নুরুল হুদা কমিশন বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছে। দায়িত্বের পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে কম ভোটার উপস্থিতি, সহিংসতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। সমালোচনা-বিতর্ক মাথায় নিয়েই ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদায় নেন তাঁরা। পরবর্তী নির্বাচন কমিশন নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা কল্পনা। আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন প্রণয়নের দাবি ওঠে। আইন হয়েছেও। এরপর সার্চ কমিটি গঠন। অবশেষে সব জল্পনার অবসান হলো।

আজ শনিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হলো, নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সাবেক সিনিয়র সচিব (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তাঁর সঙ্গী হিসেবে থাকছেন আরও দুই সিনিয়র সচিব ও এক অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।

পাঁচ বছরের জন্য এই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আগের ইসির বিতর্কের অবসান ঘটাতে কতটা সক্ষম হবেন? নতুন ইসি কেমন হলো এ নিয়ে পর্যবেক্ষণ জানতে কথা হয় বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনীতিকদের সঙ্গে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁদের আসলেই কাউকে চেনা নেই। কারও বিষয়ে কিছুই জানা নেই। আর আমাদের দাবি ছিল, সার্চ কমিটি যে নাম দেবে তা যেন প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে তাঁদের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে প্রত্যাশা থাকবে, আইন মেনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন যেন করে। বিতর্কের অবসানটা অন্তত হোক।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটির কাছে আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল, যাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য। কিন্তু এমন কিছুই করেনি। যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে শুধু হাবিবুল আউয়ালের ব্যাপারে জানাশোনা আছে। বাকিদের বিষয়ে জানা নেই। তাই একটা প্রতিবেদন যেমন, কাদের রাখা হলো, কাদের রাখা হলো না— এমন কিছু থাকলে মতামত দিতে পারতাম। এখন তাঁদের নিয়ে কোনো মতামত দেওয়া দুষ্কর। কাজ কেমন হবে, সেটার ওপর নির্ভর করে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ মাহবুব উল আলম বলেন, ‘যে কমিশন গঠন অত্যন্ত সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আমি মনে করি, যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁরা আগামী দিনে নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও ভালো কাজ করবেন।’

তবে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইসি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনো পরিষ্কার করে বলছি, শুধু নির্বাচন কমিশন নয় আওয়ামী লীগ যা কিছু করবে সব তাঁদের নিজেদের লোকদের দিয়ে করবে। সুতরাং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আমাদের কাছে অর্থবহ নয়, তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘নতুন সিইসিকে ভালো বলেই জানি। তবে সবকিছু তাঁর কাজের ওপর নির্ভর করবে। বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়!’

এর আগে বিকেলে সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আলাদা প্রজ্ঞাপনে অপর চার কমিশনারকে নিয়োগের বিষয়টিও জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ওই চারজন হলেন—   সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও সাবেক সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান।