সোনালী ডেস্ক: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, আদর্শহীন রাজনীতি আজ বিশ^বিদ্যালয়কে গ্রাস করেছে, তাই ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং ছাত্র রাজনীতির নামে যে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি শুরু হয়েছে তা সঠিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার মধ্যদিয়ে বন্ধ করতে হবে।
গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী সদর আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংগঠন তাদের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট হারিয়ে ফেলে দুর্বৃত্তায়ন ও অরাজনৈতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্ম দিয়েছে। আমাদের দেশের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য তা বলে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করেছে, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ যদি আজ শিক্ষাঙ্গনে তাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার অধিকার আদায় করে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ না করতো তবে দেশে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হওয়ার কোন প্রেক্ষাপট সৃষ্টিই হতো না। সুতরাং আজকে যদি বলেন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে তবে ওয়ার্কার্স পার্টি সেটিকে সমর্থন করে না। ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে ছাত্রসমাজের অধিকার। সেটি সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমেই তাদের আদায় করে নিতে হবে, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে নয়।
ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, আজকে ছাত্র রাজনীতির নামে যে পুলিশিতন্ত্র কায়েম করা হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। আমরা ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের কথা অনেকেই বলি, আমরা পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এতো কথা বলি কিন্তু গত দশ বছরে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন ছাত্র সংসদের নির্বাচন হলো না, কেন ছাত্ররা তাদের নেতৃত্ব আদায় করতে পারলো না সেই প্রশ্ন সরকারের কাছে উত্থাপন করতে চাই।
রাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর দেয়া চার মূলনীতির কথা মুখে বলা হলেও বাস্তবে তা তোয়াক্কা করা হয় না। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছিলেন, ‘যদি চার মূলনীতি বাস্তবায়িত না হয় তবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটবে।’ সুতরাং আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর চার মূলনীতি বাস্তবায়ন করতে চাই তবে কোনভাবেই রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারে না। কারণ চার মূলনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে। যে রাষ্ট্রের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে সেইখানে রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম হয় না, রাষ্ট্র সবার। অতএব বঙ্গবন্ধুর কথা শুধু মুখেই বললেই চলবে না, তার চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
দুর্নীতি করে জাতীয় সম্পদ যারা লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহŸান জানিয়ে বাদশা বলেন, দেশের টাকা, আমার টাকা, আপনার টাকা যারা লুট করে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে তারা নব্য রাজাকার। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ার্কার্স পার্টিকেই বিকল্প শক্তি হিসেবে লড়াই-সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
এসময় সকলের প্রতি কেন্দ্রীয় ১০ম কংগ্রেসকে সফল ও সাধারণ মানুষকে পার্টির সাথে যুক্ত করে তাদের ন্যায়-সঙ্গত দাবি নিয়ে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহŸান জানান ফজলে হোসেন বাদশা।