বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার অপসারণ দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন কতিপয় শিক্ষক। তারা সবাই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের অনুসারী বলে পরিচিত। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষক উপস্থিতি চোখে পড়ছে।
অল্প সংখ্যক শিক্ষকের উপস্থিতির ফলে বেগবান হচ্ছে না কর্মসূচিও। তাদের কর্মসূচিতে লোকবল বাড়াতে এবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এক্রাম উল্লাহ’র বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজে নিয়োজিত ২০/২২ জন কিশোরকে ডেকে আনার অভিযোগ উঠেছে। তবে তারা শিক্ষকদের কর্মসূচিতে দাঁড়াতে না পেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করে। গতকাল বুধবার দুর্গাপূজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার পর সকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। রাজমিস্ত্রির কাজে যুক্ত ওই কিশোররা এক যুবকের নেতৃত্বে প্রথমে গ্রন্থাগারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের সরিয়ে দিলে তারা শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। সেসময় তাদেরকে মোবাইলে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলতে দেখা যায়। পরে তারা সেখান থেকে সরে টুকিটাকি চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়।
বহিরাগত কিশোরদের একটি গ্রæপের ক্যাম্পাসে আসার খবরে সেখানে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, তারা জানায়, আওয়াল নামের একজন তাদেরকে ক্যাম্পাসে গিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক্রাম স্যারের সঙ্গে দেখা করতে বলেছে। তাই তারা এখানে এসেছে। তবে কর্মসূচিতে কেন দাঁড়াতে চাইছিল এমন প্রশ্নে তারা চুপ থাকেন।
জানতে চাইলে বহিরাগত ওই সব কিশোরদের নেতৃত্বে থাকা আজমত নামে এক যুবক বলেন, এক্রাম স্যারের নাম করে আওয়াল ভাই আমাদের এখানে আসতে বলেছে। তাই এসেছি। তার সাথে থাকা তরিকুল নামের একজন কিশোর বলেন, ভার্সিটিতে কী যেন আন্দোলন হচ্ছে, সেজন্য এসেছি। বলেছে নাস্তা-পানি খাওয়াবে।
বহিরাগতদের অংশগ্রহণের চেষ্টার বিষয়ে আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, তারা কোথা থেকে এসেছে আমরা জানি না। তাদেরকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র না হওয়ায় তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি।
জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এক্রাম উল্লাহ বলেন, আমি তাদেরকে ডেকেছিলাম ব্যক্তিগত কাজে। ওরা আমার বাড়িতে দীর্ঘদিন রাজমিস্ত্রিও কাজ করে। কিছু খাওয়ানোর জন্য ওদেরকে ক্যাম্পাসে আসতে বলেছিলাম। ওরা যখন ক্যাম্পাসে আসে তখন আমাদের একটা কর্মসূচি ছিল। তারা ওখানে যাওয়ার পর আমি তাদেরকে সেখান থেকে সরে টুকিটাকি চত্বরে বসতে বলি।
তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে একটা পক্ষ আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। সাধারণ বিষয় ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য তারা ষড়যন্ত্র করছে। আমি তাদের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা মুভমেন্ট চলছে। এরমধ্যে বহিরাগত কিশোররা এসে মানববন্ধনে দাাঁড়িয়েছে। তারা একজন শিক্ষকের নাম প্রকাশ্যে বলেছে। তবে ওই শিক্ষক যেহেতু অস্বীকার করছে, সেহেতু প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। তদন্তের পর এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।