সোনালী ডেস্ক: রাজশাহীর দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রাম এবং বগুড়ার শাহজানপুরে ৩ ব্যক্তি খুন হয়েছেন।
দুর্গাপুর প্রতিনিধি জানান, দুর্গাপুরে সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলীকে (৬০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠছে। ওই ঘটনায় তার ছেলে আবুল হোসেন বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আজগর উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও মাড়িয়া ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে এ ঘটে। ওই ঘটনায় বুধবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পুঠিয়া (সার্কেল) আবুল কালাম শাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের আজগর আলীর সাথে একই এলাকার সান্টু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে দ্ব›দ্ব চলছিল। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে সান্টু মোল্লার একটি আমগাছ আজগর আলীর পুকুরের উপর হেলে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সান্টু, তায়েজ, সবুজসহ আরো কয়েকজন মিলে আজগর আলীর বাড়ি উঠানে এসে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এ সময় আজগর তাদের গালমন্দ করতে নিষেধ করলে সান্টুসহ কয়েকজন মিলে আজগরের জামার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি আমবাগানে নিয়ে তাকে কিলঘুষি মারতে থাকে। এতে আজগর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোঘণা করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খুরশীদা বানু কনা জানান, ওই ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্যর ছেলে আবুল হাসেম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা যায় নি। লাশ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
বাগাতিপাড়া (নাটোর ) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিজের শয়নঘরে রেহেনা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার জয়ন্তীপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কি কারণে এ হত্যাকাÐ তা জানাতে পারেনি পুলিশ। নিহত রেহেনা বেগম উপজেলার জয়ন্তীপুর গ্রামের পল্লিচিকিৎসক মৃত ইউনুস আলীর মেয়ে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকার সাফাতুল্লাহর স্ত্রী।
নিহতের মেঝ ছেলে রানা শেখ জানান, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনিই এলাকায় থাকেন। অন্য দুই ভাই বন বিভাগে চাকরি করেন। বড়ভাই গোলাম কবির নান্নু কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবং ছোটভাই আবদুর রহমান টনিক খুলনার সাতক্ষীরা সুন্দরবন এলাকায় থাকেন। তার মা রেহেনা বেগম ছোটভাইয়ের নির্মাণাধীন পাকাবাড়িতে একাই থাকতেন। পাশেই তিনি (রানা শেখ) নিজের বাড়িতে বাস করেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও তার মা ওই বাড়িতে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি মায়ের বমি করার শব্দ পান। এর কিছুক্ষণ পর কাঁচ ভাঙার শব্দে তিনি তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নিজের বাড়ি থেকে মায়ের বাড়ির দিকে যান। সেখানে গিয়ে মুখ বাঁধা দুই জনকে দৌড়ে বাড়ির মূল গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখতে পান। এ সময় তিনি চোর ভেবে তাদেরকে তাড়া করেও ধরতে না পেরে ফিরে আসেন। এরপর মায়ের ঘরে ঢুকে বিছানার ওপরে গলায় ওড়না পেঁচানো কয়েকটি গিঁট দেয়া অবস্থায় মায়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার মাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজের ঘরের বিছানার ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। নিহতের ফুপাত ভাই আফজাল হোসেন জানান, রেহেনা বেগমের স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রায় ২০-২৫ বছর পূর্বে রেহেনা বেগম সন্তানদের নিয়ে বাবার এলাকায় চলে আসেন। এরপর থেকে তিনি জয়ন্তীপুর এলাকায় থাকতেন।
বাগাতিপাড়া থানার ওসি আবদুল মতিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুরি নাকি অন্য কোন কারনে এই হত্যাকাÐটি ঘটানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে নিহতের ঘরের শোকেচের কাঁচ ভাঙা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরে এক ছেলেকে হত্যা ও বাবাসহ অপর ছেলেকে হাত-পা বেঁধে ট্রাক থেকে মহাসড়কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দুটি মহিষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে স্বজনেরা পাবনা সুগারমিল এলাকায় নিহতের ছবি ও কাপড় দেখে লাশটি শনাক্ত করেন। এর আগে বড়াইগ্রামের আগ্রাণ এলাকায় মহাসড়কে ফেলে যাওয়া দু জনকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮) নাটোর সদর উপজেলার জয়নগর গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।
ছিনতাইয়ের শিকার জান মোহাম্মাদ জানান, রোববার তিনি তার দুই ছেলে সেলিম ও জাহাঙ্গীরকে নিয়ে রাজশাহীর সিটি হাটে যান। সেখানে পৌনে ৩ লাখ টাকায় কেনা একজোড়া মহিষ নিয়ে তারা রাতে ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চালক বানেশ্বর এলাকায় ট্রাকে ৫/৬ জন যাত্রী তোলেন। কিছুক্ষণ পরেই যাত্রীবেশী এসব ছিনতাইকারি অস্ত্রের মুখে তাকে ও তার দুই ছেলের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে বড়াইগ্রামের আগ্রাণ এলাকায় জান মোহাম্মাদ ও সেলিমকে ফেলে দিয়ে মহিষ দুটি ও জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ট্রাকসহ ছিনতাইকারিরা চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের দু জনকে উদ্ধার করলেও জাহাঙ্গীরের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার পাবনা সুগারমিল এলাকায় হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু দিনভর পরিচয় না পেয়ে আঞ্জুমানে মফিদুলের মাধ্যমে রাতে লাশটির দাফন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের পরিধেয় কাপড় ও স্থানীয়দের মোবাইলে তোলা ছবি দেখে স্বজনরা লাশটি জাহাঙ্গীরের বলে শনাক্ত করেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) হারুন-অর রশিদ জানান, এ ঘটনায় বড়াইগ্রামে দু জনকে ফেলে গেলেও নিহতের লাশ পাওয়া গেছে ঈশ^রদী থানা এলাকায়। এ কারণে বুধবার সেখানেই এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার শাজাহানপুরে শ্যালকের শাবলের আঘাতে গুরুতর আহত দুলাভাই শাহজাহান আলী (৩৫) মৃত্যুর সাথে লড়ে অবশেষে মারা গেলেন। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া পৌরসভা এলাকা নিশ্চিতন্ত পুরের ঢাকন্তা গ্রামে। নিহত শাহজাহান আলী বগুড়া সদরের শেখবাড়ী এলাকার মৃত গোফফারের ছেলে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস ডিলু জানান, বগুড়া সদর এলাকার শাজাহান আলী কয়েক বছর আগে শাজাহানপুর উপজেলার অন্তর্গত ঢাকন্তা গ্রামে বিয়ে করে নিশ্চিন্তপুর চারমাথা বাজারে এলাকায় ইলেক্ট্রিক দোকানের ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েক দিন আগে শাজাহান আলী ঢাকন্তা গ্রামে তার মামা শ্বশুর হেলাল উদ্দিনের নিকট থেকে একখÐ জমি ক্রয় করেন। এ অবস্থায় মামা শ্বশুর হেলাল উদ্দিনের ছেলে রনি জমির টাকা তার বাবাকে না দিয়ে তাকে দেয়ার জন্য বলে যায়। এতে অপারগতা জানিয়ে জমি ক্রয়ের টাকা মামাশ্বশুর হেলাল উদ্দিনকে দিলে শাহজাহান আলীর উপর ক্ষুব্ধ হয় শ্যালক রনি । বৃহস্পতিবার শাজাহান আলী স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঢাকন্তা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এলে মামতো শ্যালক রনি কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোহার শাবল নিয়ে শাজাহানের উপর হামলা চালায়। এ সময় সে শাবল দিয়ে শাহজাহান আলীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপুর্যপুরি আঘাত করে। এতে করে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পেেড়ন তিনি। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় শাজাহান আলীকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিজনরা । চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শাহজাহান আলী। ওই ঘটনায় শাজাহান আলীর স্ত্রী কাজলী বেগম ও নিশ্চিন্তপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা থানার এসআই ওবায়দুল আল মামুন জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শাজাহান আলী মারা যান। মামলা দায়েরের পরপরই ঢাকন্তা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।