এফএনএস: আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে বৈঠক করা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা আতিকুলস্নাহ ও তার সহযোগী রোবহান উদ্দিন রাব্বানী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই দুজনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ ছাড়া আতিকুলস্নাহর আরেক সহযোগী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গত ৩ অক্টোবর এই তিনজনকে চার দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম। সেই রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক কামরম্নজ্জামান দুই জঙ্গি আতিকুলস্নাহ ও বোরহানের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। এ ছাড়া মামলার অপর আসামি নাজিম উদ্দিনের ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২ অক্টোবর বিকেলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এর বড় মসজিদ এলাকা থেকে এই তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের বিরম্নদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আতিকুলস্নাহ ১৯৯৬ সালে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে গঠিত হরকাতুল জিহাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি বায়তুল মাল ও আনত্মর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল হন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের প্রথম দিকে আতিকুলস্নাহ দুবাই হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে যান। সেখান থেকে একাধিকবার তিনি পাকিসত্মান গিয়ে দেশটির জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুলস্নাহ জানান, তিনি আশির দশকের শেষের দিকে আফগানিসত্মানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেন। ওই সময় থেকেই তার সঙ্গে আল-কায়েদার প্রয়াত প্রধান ওসামা বিন লাদেন, তালেবানের সাবেক শীর্ষ নেতা মোলস্না ওমর ও আল-কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তিনি বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ। গত মার্চে তিনি দেশে এসে নতুন করে হুজিকে সংগঠিত করার কাজে নামেন। আতিকুলস্নাহর বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া দেবরামপুর এলাকায়। তার বাবার নাম হাফেজ আহসান উলস্নাহ। সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আতিকুলস্নাহর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া নাজিম উদ্দিন হুজির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ফেনী জেলার দায়িত্বে আছেন। নাজিম উদ্দিনের বাবার নাম মাওলানা আবু ওবায়দুলস্নাহ। বাগেরহাটের ডেমা মধ্যপাড়ায় তার গ্রামের বাড়ি। রাব্বানীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।