স্টাফ রিপোর্টার : মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ বুধবার থেকে ২২ দিন রাজশাহীর পদ্মানদীসহ দেশের সংশিস্নষ্ট নদীগুলোতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যনত্ম এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
সংশিস্নষ্টরা জানান, মা ইলিশ যাতে অবাধে ডিম ছাড়তে পারে সে জন্যই এ সময় নদীতে জাল ফেলা নিষেধ। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনের মধ্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে।
পদ্মায় মাছ ধরে এরকম রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় মোট জেলে রয়েছে ৪ হাজার ৭৪৩ জন। এরমধ্যে অতিদরিদ্র ১ হাজার ৮ শ জেলে পরিবারকে কর্মহীন সময়ে সরকারের পড়্গ থেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে ২০ কেজি করে (ভিজিএফ) চাল দেয়া হবে।
এদিকে, পদ্মাপাড়ের মাত্র ৪০ ভাগ জেলে সহায়তা হিসেবে চাল পাওয়ায় অন্যদের মাঝে অসনেত্মাষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, দড়্গিণাঞ্চলের অনেক বেশি জেলে সরকারের এই সহায়তা পাচ্ছে, কিন’ রাজশাহীতে মাত্র ৪০ ভাগ জেলে এই সহায়তা পাচ্ছে। তারা পদ্মাপাড়ের শতভাগ জেলেকে সহায়তা প্রদানের দাবী জানান।
রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলোক কুমার সাহা জানান, কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় করলে তার বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস’া নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এরই মধ্যে স’ানীয় জেলেদের অবহিত করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও নৌ-পুলিশ বিষয়টি নজরদারি করবে।
তিনি আরও জানান, জেলেদের জন্য ইতিমধ্যেই ৩৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চালগুলো জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তিনি আশা করেন, এ বছরও পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা করে নির্বিঘ্ন প্রজনন সম্ভব হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তারা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।
তাদের সতর্কতামূলক কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে গুরম্নত্বপূর্ণ সড়ক, নদী, ও হাটবাজারে মাইকিং, ব্যানার, পোস্টারিং, প্রচারপত্র বিতরণ, জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা না কাটা পর্যনত্ম জেলেদের জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম দূরবর্তী স’ানে সরিয়ে রাখা, নদীর ইলিশ বিচরণক্ষেত্রে প্রশাসনের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে দিনে ও রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় জেলার চার উপজেলায় জনবল বাড়ানো হয়েছে। এক অফিস আদেশে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উদয় অঞ্জেলো রোজারিও এবং বাগমারা উপজেলা মৎস্য অফিসের ড়্গেত্র সহকারী মো. লালচাঁদকে পবা উপজেলায় সংযুক্ত করে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যনত্ম সাময়িক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মোহনপুর উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা তারিক মাসুম রেজা ও দুর্গাপুরের ড়্গেত্র সহকারী মতিউর রহমানকে গোদাগাড়ীতে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুঠিয়ার মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান ও তানোরের ড়্গেত্র সহকারী আনসার আলী দায়িত্ব পালন করবেন চারঘাট উপজেলায়। আর পুঠিয়ার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারম্নজ্জামান এবং মোহনপুরের ড়্গেত্র সহকারী ইয়াসিন আলী দায়িত্ব পালন করবেন বাঘা উপজেলায়। গতকাল মঙ্গলবারই এসব কর্মকর্তা নতুন উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। সংশিস্নষ্ট উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক তারা কাজ করবেন।