বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া কর্তৃক আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নানের বিরম্নদ্ধে আনীত শিড়্গক নিয়োগ সংক্রানত্ম অনিয়মের অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগের আগে যেই চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে ধার হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছিল নিয়োগ বোর্ডের আগেই সেই টাকা ফেরত দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একটি কড়্গে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক আব্দুল হান্নান এসব দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক হান্নান ধার হিসেবে নেওয়া টাকা ও তা পরিশোধের ব্যাংক রিসিপ্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের ফটোকপি এবং চাকরিপ্রত্যাশী নুরম্নল হুদার সঙ্গে কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং উপস’াপন করেন। গত ৩ অক্টোবর রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক হান্নানের বিরম্নদ্ধে শিড়্গক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
চৌধুরী মো. জাকারিয়ার দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেড়্গিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক হান্নান বলেন, ‘আমার দুই লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। ওই সময় নুরম্নল হুদার কাছ থেকে সপ্তাহ খানেকের জন্য দুই লাখ টাকা ধার নেই। ৪ নভেম্বর নুরম্নল হুদা নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখা ইসলামী ব্যাংক থেকে রাজশাহী শাখা ইসলামী ব্যাংকের ডিসেন্ট ট্রেডার্স’র অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আমাকে দুই লাখ টাকা দেয়। এরপর গত ১২ নভেম্বর আমি ব্যাংকের মাধ্যমেই নুরম্নল হুদাকে টাকাটা ফেরত দেই। অথচ বিভাগের চাকরির নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় পরের দিন ১৩ নভেম্বর। ১৩ নভেম্বর নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন হলেও কে নিয়োগ পাচ্ছে তা সিন্ডিকেটে পাস হয় ১৭ নভেম্বর।
টাকা নেওয়া ও তা পরিশোধের মধ্যবর্তী সময়ে (গত বছরের ৯ নভেম্বর) নুরম্নল হুদার সঙ্গে অধ্যাপক হান্নানের ফোনে কথা হয়। সেই ফোনালাপে নুরম্নল হুদা ধার হিসেবে অধ্যাপক হান্নানকে দেওয়া টাকা কবে ফেরত পাবে তা জানতে চায়। এই ফোনালাপের রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে সংরড়্গিত আছে।
ধারের টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ডিসেন্ট ট্রেডার্সের অ্যাকাউন্টটি একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট। অ্যাকাউন্টটি প্রথমে অধ্যাপক হান্নানের নামে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টটিতে শফিকুল ইসলামের নাম যুক্ত করে যৌথ অ্যাকাউন্ট হিসেবে পরিচালিত করা হয়। অ্যাকাউন্টটি মূলত রাবি সংলগ্ন মীর্জাপুর এলাকায় তাদের দুজনের নামে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ ও অন্যান্য উৎস থেকে গৃহীত টাকা লেন-দেনের সুবিধার জন্য খোলা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক হান্নান।
চলতি বছরের ১ অক্টোবর চাকরিপ্রত্যাশী নুরম্নল হুদার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং ফাঁস হয়। কথোপকথনে সাদিয়া কত টাকা দেওয়ার জন্য রেডি আছে বলে জানতে চান চৌধুরী মো. জাকারিয়া। জানা গেছে, চাকরির নিয়োগের কয়েকদিন আগের রেকর্ডিং এটি। রেকর্ডিংটি ফাঁস হওয়ার পর চৌধুরী মো. জাকারিয়া আইন বিভাগের শিড়্গক নিয়োগে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন এমন অভিযোগ ওঠে তার বিরম্নদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে ৩ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে চৌধুরী মো. জাকারিয়া দাবি করেন, যে ফোনালাপ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে তা একটি স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক আংশিকভাবে, খ-িতভাবে, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। উল্টো তিনিই নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরম্নদ্ধে দৃঢ় অবস’ান নিয়েছিলেন। চৌধুরী মো. জাকারিয়া সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক হান্নানের ডিসেন্ট ট্রেডার্স’র নামে দুই লাখ টাকা জমার রিসিপ্ট, ছবি ও সহি-স্বাক্ষরসহ লিগ্যাল ব্যাংক ডকুমেন্ট উপস’াপন করেন।