স্টাফ রিপোর্টার : স’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদনত্ম করছে মন্ত্রণালয়। এলজিইডির রাজশাহী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটিকে অভিযোগের তদনত্ম করতে দেয়া হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেছে।
সম্প্রতি নাটোরের মৌসুমী ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মমতাজ আলী, রাজশাহীর হোসেন এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও বাগমারার ঠিকাদার নজরম্নল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার, ঘুষ দাবি ও অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এবং এলজিইডির রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
এ নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সোনালী সংবাদে প্রধান সংবাদ ছাপা হয়। এর পরিপ্রেড়্গিতে অভিযোগগুলো তদনেত্মর সিদ্ধানত্ম হয়। মন্ত্রণালয়ের পড়্গ থেকে গঠন করে দেয়া হয় তদনত্ম কমিটি। সোমবার কমিটির সদস্যরা বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে সরেজমিন তদনত্ম করেন। তদনত্মদলে ছিলেন এলজিইডির রাজশাহী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, নুহুল ইসলাম, মোজাহার হোসেন ও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সামিউল হক। তারা ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদনত্ম কমিটি অভিযোগকারীরা ছাড়াও রাজশাহীর রওনক ট্রেডার্স, নূর কনস্ট্রাকশন, টিয়া এন্টার প্রাইজ, মাজেদ এন্টার প্রাইজ, তুফান এন্টার প্রাইজ, মামুন এন্টার প্রাইজ, রাজু এন্টার প্রাইজ, সামাদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে কথা বলে। এছাড়া কমিটির সদস্যরা এমদাদুল হক, ওয়াসিমুল হক, আবদুল জাব্বার, শিহাব উদ্দিন, এমরান সানিসহ আরও বেশকিছু ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেন। ঠিকাদাররা উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
এর আগে ঠিকাদারদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছিল, বাগমারায় প্রায় ৫৮ লাখ টাকার কয়েকটি প্রকল্প বাসত্মবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদারের যোগসাজসে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন তার দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে এই অনিয়ম করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় সাত বছর ধরে বাগমারায় কর্মরত সানোয়ার হোসেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। ঘুষ না দিলে তিনি ঠিকাদারদের হয়রানি করেন। তিনি সরকারি বেতনভুক্ত তিনজন কর্মচারীকে নিজের বাসায় রেখে কাজ করান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘুষ না দিলে ঠিকাদারদের কাজ দেন না প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ঠিকাদাররা কাজ পেলেও তিনি ঘুষের টাকার জন্য কার্যাদেশ আটকে রাখেন। তার চাহিদামতো ঘুষ দিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদাররা প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়েন। তাই স’ানীয় কোনো ঠিকাদারের সঙ্গেই তার ভাল সম্পর্ক নেই। এর আগে পটুয়াখালির দশমিনা উপজেলায় ছিলেন সানোয়ার। সেখানেও ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন। ঘুষ আদায়কে কেন্দ্র করে ঠিকাদারদের হাতে লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। শেষে তাকে শাসিত্মমূলকভাবে বাগমারায় বদলি করা হয়। এখানে তিনি সাত বছর ধরে আছেন। আর চালিয়ে যাচ্ছেন নানা অনিয়ম।
তদনেত্মর বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুহুল ইসলাম জানান, আমরা স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক তদনত্ম শুরম্ন করেছি। ইতোমধ্যে বাগমারায় গিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তদনেত্ম যা পেয়েছি তা প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় যে ধরনের নির্দেশনা দেবে সে মোতাবেক ব্যবস’া নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। বিধিমোতাবেক সব কাজ শতভাগ করা হয়েছে। কিন’ ঠিকাদারদের অনৈতিক দাবি পূরণ না করার কারণে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদনেত্ম তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।