এফএনএস: ছাত্রলীগের মারধরে নিহত তড়িৎ কৌশল বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদের কথা বলে কাঁদলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ। গতকাল মঙ্গলবার বুয়েট শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের অবস’ান কর্মসূচিতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা- শিক্ষকরা বলি, প্রশাসন বলি, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি।
রোববার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই হলের শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন। পরে শিক্ষার্থীরা রাত ২টার দিকে হলের দ্বিতীয়তলার সিঁড়িতে তার লাশ পায়। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবরারের দুই কাঁধের নিচ থেকে হাতের কব্জি পর্যনত্ম কালসিটে ছিল। একইভাবে কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যনত্ম ছিল জখমের দাগ। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা হয়েছে এই ১০জনসহ ১৯ জনের বিরম্নদ্ধে। আবরারকে হারানোর শোক সঙ্গে করে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে অবস’ান নিয়েছেন বুয়েটের একদল শিক্ষার্থী। তাদের কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করতে আসেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। অধ্যাপক মাসুদ বলেন, আমাদের এক ছাত্রকে এভাবে পিটিয়ে মারা হল… আমাদেরও অনেকের এই বয়সী সনত্মান আছে। আমরা আমাদের নিজের সনত্মানদের মতো করে বিষয়টিকে ফিল করছি। আবরার ফাহাদের কথা বলতে গিয়ে অনেক শিক্ষক কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। এই হল এখন আমাদের অবস’া। অতীতের বিভিন্ন র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় প্রশাসন ব্যবস’া নিতে ব্যর্থ হওয়ায় আবরারকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মনত্মব্য করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে এই শিক্ষক নেতা বলেন, একটা ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে মারা হবে, এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। খুনিরা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাসিত্ম পাবে, আমরা সবাই এটা চাই। বুধবার সকালে শিক্ষকদের সাধারণ সভা থেকে আবরার হত্যার প্রতিবাদে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষক সমিতি সভাপতি। আমরা চাইব, আবরার হত্যার বিচার হবে এবং বুয়েট তার সুনাম অড়্গুন্ন রেখে পুনরায় আগের অবস’ায় ফিরে আসবে, বলেন অধ্যাপক মাসুদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অ্যাকাডেমিক ভবন, হলসহ সমগ্র ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনা প্রমাণ করছে যে কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গত সোমবার রাতে শিক্ষক সমিতির সভায় গৃহীত বিবৃতি এ সময় পড়ে শোনান তিনি।