এফএনএস: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয় আর গতকাল মঙ্গলবার গ্রেফতার হয় আরও তিনজন। তারা হলেন-শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মনিরম্নজ্জামান মনির ও মো. আকাশ হোসেন। মঙ্গলবার ডিএমপি ও ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জিগাতলা এলাকা থেকে শামসুল আরেফিন রাফাতকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (দক্ষিণ)। তিনি বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের ছাত্র। ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডেমরা থেকে মনিরম্নজ্জামান মনিরকে ও গাজীপুরের বাইপাল থেকে মো. আকাশ হোসেনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মনির বুয়েটের ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এবং আকাশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত সোমবার যাদেরকে গ্রেফতার করা হয় তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারম্নল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না। গ্রেফতারদের মধ্যে সাতজনের নাম ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের তালিকাতেও আছে। এর আগে, এই ঘটনায় গত সোমবার আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং রাতে গ্রেফতার ১০ জনকে গতকাল মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া এই হত্যাকা-ে সংশিস্নষ্টতার দায়ে ছাত্রলীগ থেকেও স’ায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ নেতাকে।
তদনত্ম প্রতিবেদন ১৩ নভেম্বর: আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ১৯ জনের বিরম্নদ্ধে করা মামলার তদনত্ম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদনত্ম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। চকবাজার থাকার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মাজহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলসহ ১০ নেতাকর্মীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। চকবাজার থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদনেত্মর জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী প্রত্যেকের পাঁচদিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যাদের রিমান্ড হলো- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাতুল ইসলাম জিওন, গ্রন’না ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, ছাত্রলীগ কর্মী মুনতামির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারম্নল ইসলাম তানভীর, মোজাহিদুর রহমান, মেহেদী হাছান রবিন।