এফএনএস: শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হলেও সব ক্ষমতা নিজের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম। আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের তিনি বলেছেন, আবরার হত্যায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে বহিষ্কার করা হবে। আমি শিক্ষা-উপমন্ত্রীর সাথে তোমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেছি। তোমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে নীতিগতভাবে আমরা একমত। তবে আমার হাতে সব ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা অনুযায়ী তোমাদের দাবিগুলো মেনে নেবো। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর নিজ কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের এসব কথা বলেছেন তিনি। এর আগে, বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। কিন’ শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, বিকাল ৫টার মধ্যে আলোচনায় না বসায় সাড়ে ৫টার দিকে তাকে অবরম্নদ্ধ করা হয়। আধাঘণ্টা অবরম্নদ্ধ থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন তিনি। এরপর তার কার্যালয়ের তালা খুলে দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় আবরার হত্যার বিচারসহ ৮ দফা দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। উলেস্নখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে রোববার রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদনত্ম সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদনত্ম করেন। তিনি বলেন, ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। এই ঘটনায় গত সোমবারআবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মোট গ্রেফতার হয়েছে ১৩ জনকে। গতকাল মঙ্গলবার ১০ আসামির প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া এই হত্যাকা-ে সংশিস্নষ্টতার দায়ে ছাত্রলীগ থেকেও স’ায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ নেতাকে।