সোনালী ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদের দাফন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গোরস’ানে সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে, ময়না তদনত্ম শেষে গত সোমবার রাত ১০টায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ভোরে কুষ্টিয়ায় পিটিআই রোডস’ আল-হেরা জামে মসজিদের সামনের রাসত্মায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা, এরপর গ্রামের বাড়িতে নিজ বাসার সামনে তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার রাতে বুয়েটের আবাসিক হলে বেদম প্রহারে আবরার ফাহাদের মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় আর গতকাল মঙ্গলবার গ্রেফতার হয় আরও তিনজন। তারা হলেন-শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মনিরম্নজ্জামান মনির ও মো. আকাশ হোসেন। মঙ্গলবার ডিএমপি ও ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডেমরা থেকে মনিরম্নজ্জামান মনিরকে ও গাজীপুরের বাইপাল থেকে মো. আকাশ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মনির বুয়েটের ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এবং আকাশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গত সোমবার যাদেরকে গ্রেফতার করা হয় তারা হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারম্নল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজনের নাম ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের তালিকাতেও আছে।
এর আগে, এই ঘটনায় গত সোমবার আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং রাতে গ্রেফতার ১০ জনকে গতকাল মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া এই হত্যাকা-ে সংশিস্নষ্টতার দায়ে ছাত্রলীগ থেকেও স’ায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ নেতাকে।
আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ১৯ জনের বিরম্নদ্ধে করা মামলার তদনত্ম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদনত্ম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। চকবাজার থাকার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মাজহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলসহ ১০ নেতাকর্মীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।
চকবাজার থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদনেত্মর জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যাদের রিমান্ড হলো, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাতুল ইসলাম জিওন, গ্রন’ণা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, ছাত্রলীগ কর্মী মুনতামির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারম্নল ইসলাম তানভীর, মোজাহিদুর রহমান, মেহেদী হাছান রবিন।
এদিকে, বিশেষ আদালতে দ্রম্নত বিচারের আওতায় এনে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার খুনিদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসিত্মর দাবি জানিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে এ দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে কুষ্টিয়া জেলা সমিতির ঢাকার নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবী, রাজনৈতিক কর্মী, লেখক- সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দ্রম্নত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টানত্মমূলক শাসিত্ম প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করা হয়।