সোনালী ডেস্ক : আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮৯টি দেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ দিবসটিকে উপলড়্গ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সেবা সপ্তাহও পালন করে।
১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে ২২টি দেশের প্রতিনিধিদের উপসি’তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ‘জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন’ নামে একটি আনত্মর্জাতিক সংস’া। পরবর্তীতে ১৮৭৮ সালে এটির নাম পরিবর্তন করে করা হয় ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়ন। এ সংস’ার উদ্যোগে প্রায় সারা বিশ্বের ডাক ব্যবস’া একটি অভিন্ন ব্যবস’ার অধীনে একটি পরিবারের মতো।
বাংলাদেশ বিশ্ব ডাক সংস’ার সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৩ সালের ৭ ফেব্রম্নয়ারি। সদস্য হওয়ার বছর থেকেই বাংলাদেশে গুরম্নত্বের সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। উলেস্নখ্য, বাংলাদেশে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই।
বিশ্ব ডাক সংস’ার সদস্য পদ লাভ করার পর থেকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ আনত্মর্জাতিক ডাক যোগাযোগের ড়্গেত্রে কাজ করে আসছে। ডাক বিভাগ গোটা বিশ্বকে পরিণত করেছে এক সীমাহীন ভূখ-ে। ভিসা পাসপোর্ট ছাড়াই চিঠি চলে যায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে। ডাকের মাধ্যমে চিঠি আদানপ্রদানের ধারণাটি বহুদিনের পুরনো। এক সময় পায়রার পায়ে বা কুকুরের গলায় চিঠি লিখে পাঠানো হতো। তারপর চিঠিপত্র হয়ে ওঠে ঘোড় সওয়ার। চিঠিপত্র বহনকারী ঘোড় সওয়ার পথে বিশাম নিতে ঘোড়াকে একটি খুঁটি বা পোস্ট এ বেঁধে নিতেন, সেই থেকে পোস্ট কথাটির প্রচলন, বিশ্রামাগার হয়ে ওঠে পোষ্ট অফিস। ঘোড় সওয়ার বার্তাবাহক হয়ে ওঠেন পোস্টম্যান।
মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই ডাকের ইতিহাস সুপ্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ। সভ্যতার পর থেকে শুরম্ন করে ডাকবিভাগ আজও এগিয়ে চলছে অব্যাহতভাবে। বহু প্রতিবন্ধকতা, বহু পথ পাড়ি দিয়ে ডাক ব্যবস’া আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে সমাসীন। নিঃস্বার্থ সেবাই যেনো ডাক ব্যবস’ার অলংকার।
পৃথিবী এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে। ফ্যাক্স, ইন্টারনেট ও ই-মেইল মানুষকে দিয়েছে নতুন গতি। এতো কিছুর পরও মানুষের রক্তের সম্পর্কের মতোই অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক ডাক বিভাগের সঙ্গে। ডাক বিভাগ এখনো বয়ে আনে প্রিয়জনের শুভেচ্ছা, গ্রামের অজপাড়াগায়ে উন্মুখ হয়ে বসে থাকা মায়ের কাছে পৌঁছে দেয় শহরে থাকা চাকরিজীবী ছেলের মানি অর্ডার। ডাকহরকরা, পিয়ন ও পোস্টমাস্টার এখনো যেনো পরিবারের অতি আপনজন।