স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, দেশে অনেক সুন্দর মডেল মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু মডেল মন্দির নেই। তাই মডেল মন্দিরও তৈরি করা প্রয়োজন। তাহলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আরও ভালভাবে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কথা বলতে চান।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহীর সব পূজামÐপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ওয়ার্কার্স পার্টির দলীয় কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা নগরীর ৭৭টি পূজামÐপের নেতৃবৃন্দের হাতে অনুদান তুলে দেন।
তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমি অসম্প্রাদায়িকতায় বিশ^াসী। কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষ সুবিধা বেশি পাবে, অন্য ধর্মের মানুষ পাবে না আমি এই নীতিতে বিশ^াসী নই। তাই সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের সবার যাতে উন্নয়ন হয়, তারা সুযোগ-সুবিধা পায় এর জন্য আমার পক্ষ থেকে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমি নেব। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে মডেল মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব দেব। এর পাশাপাশি মন্দির ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করবো।
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহŸায়ক ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমি সবসময় লড়ে গিয়েছি। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবো। সংসদীয় ককাসের সাথে এবার সংখ্যালঘুদের সংযুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদকেও ককাসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে যাতে সবার স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
রাজশাহীর মসজিদ-মন্দির উন্নয়নে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবছর এক কোটি টাকার টিআর বরাদ্দ পাই। এর সব টাকাই উন্নয়নমূলক কর্মকাÐে ব্যয় করি। আমি যেমন মসজিদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি তেমনি মন্দিরের জন্যও দিয়েছি। হড়গ্রাম মন্দিরের অবস্থা খুব খারাপ ছিলো। আমার সহায়তায় সেটি ঠিক করা হয়েছে। এরকম আরও অনেক মন্দিরের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। ভবিষ্যতেও উন্নয়নে আরও কাজ করে যাবো।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু। সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু সভা পরিচালনা করেন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ড. সুজিত সরকার, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, ধর্মসভার সহ-সভাপতি রাজকুমার সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমÐলীর সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সিরাজুর রহমান খান, নাজমুল করিম অপু প্রমুখ।